আইপিএল ২০২৬-এর মরশুম লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে এক দুঃস্বপ্নের মতো। পয়েন্ট টেবিলের একেবারে শেষের দিকে পড়ে থাকা দলটি এবারের আসরে একের পর এক ভুল কৌশল এবং ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এই ভরাডুবির পর থেকেই ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্দরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা—দলের অধিনায়ক ঋষভ পন্থ কি নেতৃত্বের ভার ধরে রাখতে পারবেন?
ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত: লখনউয়ের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে দেখা যায়, দলের টপ অর্ডারে ভরসা দিলেও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা এবং ডেথ ওভারে বোলারদের অগোছালো লাইন-লেংথ ডুবিয়েছে দলকে। অধিনায়ক হিসেবে পন্থের ফিল্ডিং সাজানো এবং বোলিং পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত সমালোচনার মুখে পড়েছে। পন্থ ব্যক্তিগতভাবে লড়াই করলেও, দলগত ব্যর্থতা এখন তাঁর নেতৃত্বের ওপরই বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
কেন উঠছে নেতৃত্বের পরিবর্তনের দাবি? ক্রিকেট মহলের একাংশের মতে, পন্থের নেতৃত্বে লখনউয়ের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব ফুটে উঠছে। যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে তাঁকে বড় অঙ্কের বিনিময়ে দলে নেওয়া হয়েছিল, তার প্রতিফলন মাঠে দেখা যাচ্ছে না। ফ্র্যাঞ্চাইজি সূত্রের খবর, শেষ কয়েক ম্যাচে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে মালিকপক্ষ অত্যন্ত অসন্তুষ্ট। এমনকি, পরবর্তী মরশুমের আগে বা এই মরশুমের শেষ ভাগে নেতৃত্ব পরিবর্তনের কথা নিয়ে দলের ভেতর আলোচনা শুরু হয়েছে বলে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে।
পন্থের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ: ঋষভ পন্থ সর্বদা একজন আক্রমণাত্মক নেতা হিসেবে পরিচিত, তবে এই আইপিএলে তাঁর সেই চেনা মেজাজ যেন কিছুটা স্তিমিত। দল যদি পয়েন্ট টেবিলের তলানি থেকে উপরে উঠতে না পারে, তবে অধিনায়ক হিসেবে তাঁর ভবিষ্যৎ যে অনিশ্চিত, তা বলাই বাহুল্য। তবে অনেকে মনে করছেন, পন্থকে আরও কিছুটা সময় দেওয়া উচিত, কারণ দীর্ঘ দিন পর বড় দলে নেতৃত্ব দেওয়ার চাপের সাথে মানিয়ে নিতে তাঁর কিছুটা সময় লাগতে পারে।
বিশ্লেষকদের মত: প্রাক্তন ক্রিকেটার ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অধিনায়ক বদল করলেই দলের সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন ম্যানেজমেন্ট এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে সঠিক সমন্বয়। তবুও, আইপিএলের মতো হাই-ভোল্টেজ টুর্নামেন্টে ফল না আসলে দায়ভার অধিনায়কের ওপরই বর্তায়, যা এখন পন্থের ক্ষেত্রেও ঘটছে।





