বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ধাক্কা। দলের বর্ষীয়ান নেত্রী এবং বিশিষ্ট মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। শুধুমাত্র পদত্যাগই নয়, পদত্যাগপত্রে তিনি দলের অন্দরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-এর ভূমিকা নিয়ে যে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
কী লেখা আছে পদত্যাগপত্রে? সূত্রের খবর, কাকলি ঘোষ দস্তিদার তাঁর পদত্যাগপত্রে দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগের মূল দিকগুলো হলো:
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি: দলের অভ্যন্তরে যেভাবে বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে, তার তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি।
আইপ্যাকের অতি-সক্রিয়তা: নির্বাচনে দলের ভরাডুবির জন্য তিনি সরাসরি আইপ্যাকের রণকৌশলকে দায়ী করেছেন। নেত্রীর অভিযোগ, দলের নেতাদের গুরুত্ব কমিয়ে আইপ্যাককে বেশি প্রাধান্য দেওয়ার ফলেই তৃণমূলের এই বিপর্যয়।
নেতৃত্বের ব্যর্থতা: দলের নীতিনির্ধারণে পেশাদার সংস্থা বা বাইরের লোকদের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ যে কর্মীদের মনোবলে আঘাত করেছে, তা পদত্যাগপত্রে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: নির্বাচনের ফল প্রকাশের প্রায় ২০ দিন পরেও দলের মধ্যে অসন্তোষের আঁচ কমেনি, বরং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো হেভিওয়েট নেত্রীর পদত্যাগ তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিল। বিরোধী শিবির একে ‘তৃণমূলের অন্দরের গৃহযুদ্ধ’ বলে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে আইপ্যাকের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীলতার যে অভিযোগ তৃণমূলের অন্দরেই উঠছিল, তা এখন বিস্ফোরণের রূপ নিল।
এখন কী হবে? নেত্রীর এই পদত্যাগ দলের অন্যান্য স্তরেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তৃণমূলের অনেক নেতা। আইপ্যাক নিয়ে দলের ভেতরে যে ‘শীতল যুদ্ধ’ চলছিল, তা কি এখন প্রকাশ্যে এল? এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।





