তীব্র দাবদাহে যখন সাধারণ মানুষ নাজেহাল, ঠিক তখনই বড় সুখবর শোনাল ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD)। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বৃষ্টির সঙ্কেত। মৌসম ভবনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৬ মে থেকেই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবেশের পরিস্থিতি অনুকূল হতে শুরু করেছে। ফলে শীঘ্রই ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকে মুক্তি মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আইএমডি-র সাম্প্রতিক বুলেটিনে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম এবং তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগরের ওপর একটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে, যা মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতিতে বড় ভূমিকা পালন করছে। সাধারণত মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে আন্দামানে বর্ষা পৌঁছায় এবং তারপর তা কেরলের অভিমুখে এগোয়। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, আন্দামানে এবার নির্দিষ্ট সময়ের খানিকটা আগেই বর্ষা কড়া নাড়ছে। তবে আন্দামানে আগে বর্ষা আসা মানেই যে মূল ভূখণ্ডে তা দ্রুত ঢুকবে, এমনটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। সাধারণত ১ জুন থেকে কেরলে বর্ষার অভিষেক ঘটে, যার ওপর ভিত্তি করেই সারা দেশের বৃষ্টির খতিয়ান তৈরি হয়।
অন্যদিকে, উত্তর-পূর্ব ভারত ও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে ইতিমধ্যে বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ১৪ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তামিলনাডু, কেরল, পুদুচেরি এবং দক্ষিণ অভ্যন্তরীণ কর্ণাটকেও বৃষ্টির দাপট বাড়বে।
তবে বর্ষার স্বস্তির খবরের মাঝেও উত্তর ও পশ্চিম ভারতের পরিস্থিতি উদ্বেগের। ১৪ ও ১৫ মে রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশের একাংশে তীব্র তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি পঞ্জাব, হরিয়ানা, দিল্লি এবং উত্তর প্রদেশের বাসিন্দাদেরও ১৯ মে পর্যন্ত গরমের দাপট সইতে হবে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, একদিকে বর্ষার আগমন বার্তা পাওয়া গেলেও উত্তর ও পশ্চিম ভারতে আপাতত গরমের দাপট কমার কোনো লক্ষণ নেই।





