কলকাতা পুলিশের শৃঙ্খলায় আরও ধার দিতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীকে আরও ক্ষুরধার করে তুলতে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল লালবাজার। শহরের রাজপথে জনতা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বিক্ষোভ সামলানো—প্রতিটি ক্ষেত্রে পুলিশকর্মীদের দক্ষতা ও সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দলগত কাজের (Team Work) মানোন্নয়নই এই নতুন পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
লালবাজার সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে বিভিন্ন বিক্ষোভ, মিছিল বা ভিড় নিয়ন্ত্রণের সময় দেখা গিয়েছে, বহু পুলিশকর্মী, বিশেষ করে নিরস্ত্র শাখার কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও কোথাও কোথাও ঘাটতি চোখে পড়েছে। এই খামতিগুলো দূর করতেই কমিশনার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে, প্রতিটি ডিভিশনকে প্রতি ১৫ দিনে একবার বাধ্যতামূলকভাবে ‘মাস্টার প্যারেড’-এর আয়োজন করতে হবে। শুধুমাত্র প্যারেডই নয়, তার সঙ্গে চলবে ‘ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট’ এবং ‘টিম বিল্ডিং’-এর মতো বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
এই নতুন নিয়মে কনস্টেবল থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ আধিকারিক—সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রশিক্ষণে যোগ দিতে হবে। কোন পুলিশকর্মী প্রশিক্ষণে অংশ নিলেন, তার রেকর্ড রাখার জন্য প্রতিটি ডিভিশনে একটি বিশেষ রেজিস্টার মেইনটেন করতে হবে। শুধু তাই নয়, প্রতি মাসে প্রশিক্ষণের একটি বিস্তারিত রিপোর্ট যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর)-এর কাছে জমা দিতে হবে। পুলিশ প্রশাসনের একাংশের মতে, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও পথ অবরোধের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তাই কেবল অস্ত্র চালানো নয়, জনতার মনস্তত্ত্ব বুঝে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দক্ষতাও এখন অত্যন্ত জরুরি।
লালবাজারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের দাবি, নিয়মিত এই মহড়া ও প্রশিক্ষণের ফলে মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশকর্মীদের আত্মবিশ্বাস যেমন বাড়বে, তেমনই বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা আরও মজবুত হবে। ইতিমধ্যেই প্রতিটি ডিভিশনে এই প্রশিক্ষণ সূচি তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই কলকাতার রাস্তায় পুলিশের এক নতুন এবং আরও সুশৃঙ্খল অবতার দেখা যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





