মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুর জেলায় গত রাতে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। লাভকুশনগর থানা এলাকার আদালত চত্বরের অদূরে ২৩ বছর বয়সী এক যুবককে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহত যুবকের নাম কে. কে. গুপ্তা। প্রকাশ্য রাস্তায় এমন ঘটনার পর থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল গভীর রাতে আদালত চত্বরের কাছে কে. কে. গুপ্তার সঙ্গে একদল ব্যক্তির বিবাদ শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, কোনো একটি পুরোনো আর্থিক লেনদেন বা বিবাদকে কেন্দ্র করেই এই ঝগড়ার সূত্রপাত। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় যুবকটিকে ঘিরে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে ফেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, নৃশংস হামলার পর আক্রান্ত যুবকটি যন্ত্রণায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘক্ষণ ধরে ধুঁকতে থাকে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সুযোগ বুঝে হামলাকারীরা মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে লাভকুশনগর থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে পুলিশ তদন্তের জাল বিস্তার করেছে। আদালতের মতো সংবেদনশীল এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে যাতে অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়। ছাতারপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়েরের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। খুনিদের খুঁজে বের করতে পুলিশের বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে এবং তাদের সম্ভাব্য গোপন আস্তানাগুলিতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
নিহতের পরিবার এই ঘটনায় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। এলাকার মানুষজন পুলিশের কাছে এই ঘটনার দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। আদালত চত্বরের মতো জনবহুল এলাকায় এমন দুর্ধর্ষ অপরাধের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, অভিযুক্তরা যে যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের খুব দ্রুতই আইনের আওতায় আনা হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এই মুহূর্তে গোটা এলাকা থমথমে। কে. কে. গুপ্তার মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।





