রবিবাসরীয় সকালে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বাংলা। রাজভবনের সবুজ লনে রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের কাছে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পদ ও গোপনীয়তার শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু শপথের ঠিক পরেই যে আক্রমণাত্মক মেজাজের জন্য তিনি পরিচিত, তার বদলে দেখা গেল এক শান্ত, সংযত এবং দায়িত্বশীল নতুন শুভেন্দুকে। তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়াতেই স্পষ্ট, এবার তিনি আর বিরোধী দলনেতা নন, বরং রাজ্যের অভিভাবক হিসেবে নিজেকে মেলে ধরতে চান।
ব্যক্তিগত নয়, জনগণের জয় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে রাজভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু বলেন, “নির্বাচনের ময়দানে অনেক কথা হয়েছে, অনেক লড়াই হয়েছে। কিন্তু আজকের পর থেকে আমি আর কোনো দলের লোক নই। আজ থেকে আমি পশ্চিমবঙ্গের সাড়ে ১০ কোটি মানুষের মুখ্যমন্ত্রী। আমার কাছে শাসক-বিরোধী কোনো ভেদাভেদ নেই। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন আমি তাঁদেরও মুখ্যমন্ত্রী, আর যারা দেননি আমি তাঁদেরও।”
বিতর্ক থেকে দূরত্ব দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর চাঁচাছোলা এবং অনেক সময় বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য শিরোনামে থেকেছেন। তবে আজ তিনি এক অভাবনীয় অঙ্গীকার করেন। শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, “মুখ্যমন্ত্রী পদের একটা আলাদা মর্যাদা আছে। আমি কথা দিচ্ছি, আমি আজ থেকে আর একটাও বিতর্কিত কথা বলব না। আমার লক্ষ্য হবে শুধুমাত্র রাজ্যের উন্নয়ন এবং শান্তি ফিরিয়ে আনা।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই ঘোষণা আসলে বিরোধীদের এবং আমজনতার আস্থা অর্জনের এক বড় কৌশল।
উন্নয়নই প্রথম অগ্রাধিকার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি জানান, বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনাই হবে তাঁর প্রধান কাজ। বিশেষ করে শিক্ষা, শিল্প এবং কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিতে চায় নতুন সরকার। মমতার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাইটার্সে বসার আগে তাঁর এই নমনীয় মেজাজ যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।
নতুন যুগের সূচনা রবিবারের এই শপথ গ্রহণের মধ্যে দিয়ে বাংলায় এক নতুন রাজনৈতিক জমানার শুরু হলো। শুভেন্দুর এই ‘আমি সবার মুখ্যমন্ত্রী’ বার্তা আদতে রাজভবন থেকে নবান্ন পর্যন্ত বিস্তৃত পরিবর্তনের এক শক্তিশালী সংকেত। এখন দেখার, রাজধর্ম পালন করতে গিয়ে তিনি তাঁর এই বিতর্কহীন প্রতিশ্রুতির কথা কতখানি রক্ষা করতে পারেন।





