হিমাচল বোর্ড পরীক্ষায় বড়সড় দুর্নীতি! ফরেনসিক রিপোর্টে ফাঁস চাঞ্চল্যকর তথ্য, বিপাকে পরীক্ষার্থীরা

হিমাচল প্রদেশ বোর্ড অফ স্কুল এডুকেশন (HPBOSE) পরিচালিত ২০২৫ সালের ম্যাট্রিকুলেশন বা দশম শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফলে এক বড়সড় দুর্নীতির পর্দা ফাঁস হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত ফরেনসিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, পরীক্ষার উত্তরপত্রে ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্যের শিক্ষামহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরীক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষাগত স্বার্থ রক্ষার্থে বোর্ড কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বিলাসপুর জেলার ঝান্ডুট্টা সরকারি সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে। এই কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসা ৪০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিওরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১১ জন আর্টস বিভাগের ছাত্রছাত্রী বোর্ডের কাছে লিখিত অভিযোগ জানায় যে, তাদের উত্তরপত্রের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন বা MCQ অংশে কারচুপি হয়েছে। তাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বোর্ড সদর দপ্তরে ছাত্রছাত্রীদের তলব করা হয় এবং একজন বিষয় বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে তাদের উত্তরপত্রগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখা হয়।

সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে উত্তরপত্রগুলো ধর্মশালার আঞ্চলিক ফরেনসিক বিজ্ঞান পরীক্ষাগারে (RFSL) পাঠানো হয়। ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্রগুলো নিয়ে বাস্তবিকই কারচুপি বা ট্যাম্পারিং করা হয়েছে। বোর্ড চেয়ারম্যান রাজেশ শর্মা জানিয়েছেন, এই তদন্তের পাশাপাশি আরও একটি ভয়াবহ অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। পরীক্ষার উত্তরপত্র যে সমস্ত ‘টেম্পার-প্রুফ’ খামে সিলগালা করে রাখা হয়েছিল, সেই খামের ক্রমিক নম্বরের সাথে প্যাকিং মেমোর তালিকার নম্বরের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এর থেকেই স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, হয় পরীক্ষা কেন্দ্রে অথবা উত্তরপত্র পরিবহনের সময় সুপরিকল্পিতভাবে খাম অদলবদল করা হয়েছে।

তবে এই সংকটের মুহূর্তে পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে বোর্ড জানিয়েছে, এই জালিয়াতির ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের কোনো দোষ নেই। এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তাজনিত গাফিলতির ফসল। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখাই বোর্ডের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বোর্ডের গঠিত বিশেষ তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, যেসব প্রশ্নের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, সেই ভুল প্রশ্নগুলির জন্য সকল পরীক্ষার্থীকে ক্ষতিপূরণমূলক নম্বর (Grace Marks) প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোর্ড চেয়ারম্যান নিশ্চিত করেছেন যে, শিক্ষার্থীদের ফলাফলে যেন কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেই লক্ষ্যে সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রতারিত ছাত্রছাত্রীদের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy