উত্তরপ্রদেশের বেরেলির মীরগঞ্জ থানা এলাকায় এক ভয়াবহ ঘটনার শিকার হয়েছে ১৫ বছর বয়সী এক একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। গত এক বছর ধরে দুই যুবকের লাগাতার হয়রানি ও হুমকির জেরে কার্যত গৃহবন্দি হয়ে পড়েছে ওই মেধাবী কিশোরী। পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়ে সে তার পড়াশোনাও ছেড়ে দিয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, শান মোহাম্মদ এবং তার চাচাতো ভাই সামি নামে ওই দুই যুবক তাকে নিয়মিত উত্ত্যক্ত করত, অশ্লীল মন্তব্য ছুড়ত এবং স্কুলের পথে তাকে অনুসরণ করত।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা কেবল উত্ত্যক্ত করেই ক্ষান্ত থাকেনি, তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে শুরু করে। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় অ্যাসিড নিক্ষেপের মতো ভয়াবহ হুমকি দেওয়া হয় তাকে। এই হুমকির পর থেকে ওই ছাত্রী একা ঘরের বাইরে বেরোতেও সাহস পাচ্ছে না। তার স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর, কিন্তু পাড়ার এই দুই যুবকের তাণ্ডবে তার স্বপ্ন আজ ধুলোয় মিশতে বসেছে। তার পরিবারে মা ও দুই বোন থাকায় তারা সব সময় এক তীব্র মানসিক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
গত ২২ মে এই অমানবিক ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ছাত্রীটির বাবা ও ভাই যখন অভিযুক্তদের বাড়িতে যান, তখন উল্টে তাদের ওপরই চড়াও হয় শান ও সামি। মারধর করা হয় পরিবারের সদস্যদের। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার পর অভিযুক্তরা তাদের বাড়ির বাইরের দিকে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েছে, যা দিয়ে ওই পরিবারের প্রতিটি গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। এই ঘটনায় পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
মীরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ ওই ছাত্রীর। নিরূপায় হয়ে সে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের শরণাপন্ন হয়েছে। সে দাবি জানিয়েছে, অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হোক, যাতে সে আবার নির্ভয়ে স্কুলে ফিরে পড়াশোনা শুরু করতে পারে। অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের দাবি, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একটি কিশোরীর শিক্ষা ও নিরাপত্তা আজ যেখানে প্রশ্নের মুখে, সেখানে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই এখন একমাত্র ভরসা।





