সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে…!’ বিচারপতির তীব্র ক্ষোভ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধমক

কলকাতা হাইকোর্টে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হলো শুক্রবার। বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনে ধৃত পুলিশ অফিসার রত্না চক্রবর্তীর জামিন মামলার শুনানিতে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মামলা ছেড়ে দিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। বিচারপতির এজলাসে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মন্তব্য ‘সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে’ বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ও বিচারপতির ক্ষোভ
শুক্রবার রত্না চক্রবর্তীর অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আদালত সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিচার ব্যবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, “এরকম আচরণ উনিও (অন্য এক বিচারপতি) করেন। আমাদের বিচারপতিদের কৃপার দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এটাই দুর্ভাগ্য।”

এই মন্তব্যে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ চরম বিরক্ত হন। তিনি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত ধমক দিয়ে বলেন, “অনেকক্ষণ ধরে আদালত সম্পর্কে নানা মন্তব্য করছেন। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আপনার লেকচার আদালত শুনবে না। আমি এই মামলা ছেড়ে দিচ্ছি। অন্য কোনও বেঞ্চে যান।” বিচারপতি আরও বলেন, “কোর্ট এমন আচরণ বরদাস্ত করবে না।” এই ঘটনার পর মামলাটি বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাস থেকে স্থানান্তরিত হতে চলেছে।

শুনানির শুরুতেই বিতর্ক এবং সিবিআইকে তোপ
এদিন শুনানির শুরুতেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সিবিআই-এর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, চার বছর পর হঠাৎ কেন পুলিশ অফিসার রত্না চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করা হলো।

শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি জানান যে, আগামী সপ্তাহ থেকে ১৫ দিন তিনি সার্কিট বেঞ্চে থাকবেন, তাই মামলার পরবর্তী শুনানি ১৫ দিন পরে হবে। একইসঙ্গে তিনি জানান যে, যদি দ্রুত শুনানি দরকার হয়, তাহলে অন্য এজলাসে শুনানির সুযোগ রয়েছে। বিচারপতি আরও বলেন, “এই মামলা আজই শেষ করে রায় দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ এর মধ্যে অনেক আইনি দিক আছে।” এরপরেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অন্তর্বর্তী জামিনের জন্য বারবার আবেদন করতে থাকেন, যা বিচারপতির ধৈর্যচ্যুতির অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নজিরবিহীন ঘটনা: বিচার ব্যবস্থা ও আইনজীবীদের ভূমিকা
বিচারপতির এজলাস ছাড়ার এই ঘটনা বিচার ব্যবস্থা এবং আইনজীবীদের আচরণের ক্ষেত্রে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আদালতের প্রতি সম্মান এবং শালীনতা বজায় রাখা আইনজীবীদের মৌলিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। এই ঘটনা হাইকোর্টের কার্যক্রমে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল এবং এটি ভবিষ্যতে আদালতের শুনানিতে আইনজীবীদের আচরণবিধি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy