“সব লুট করেছে তৃণমূল!” সকালে ভিক্টোরিয়ায় প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

রবিবার সকালের রুটিনে বড়সড় রদবদল করলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সাধারণত ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে দেখা গেলেও, এদিন সকালে তাঁকে দেখা গেল ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল চত্বরে। সেখান থেকে সোজা হাঙ্গার স্ট্রিট হয়ে শেক্সপিয়ার সরণির একটি আবাসনে পৌঁছান তিনি। ভিক্টোরিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তুললেন দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ।

দিলীপ ঘোষ এদিন তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “পঞ্চায়েত আর পুরসভা তৃণমূলের লুটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এমএলএরা কোটি টাকার গাড়ি হাঁকিয়ে বেড়ান। কাউন্সিলরদের কাছে অঢেল টাকা, পঞ্চায়েত প্রধানরা রাজপ্রাসাদ বানাচ্ছেন। যারা দুর্নীতি করেছে, তাদের কেউই রেহাই পাবে না। জেল তৈরি হচ্ছে, সব অ্যারেস্ট হবে। মাটির তলা থেকে খুঁজে বের করে তাদের বিচার হবে।” তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল নিয়েও খোঁচা দিতে ছাড়েননি তিনি। দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা মিটিংয়েও এখন তৃণমূল কাউন্সিলররা উপস্থিত থাকছেন না।

রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার ৫১ হাজার কর্মী নিয়োগ করল, যেখানে কোনো অস্বচ্ছতা নেই। কিন্তু রাজ্যের ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরির কোনো হদিশ নেই। হোয়াটসঅ্যাপে নিয়োগ হয়েছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবিরুদ্ধ। ওএমআর লিস্ট খুঁজে বের করলেই দুধ আর জল আলাদা হয়ে যাবে।”

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্মান্তিক ঘটনার তদন্ত নিয়েও তিনি বড় ঘোষণা করেন। দিলীপের কথায়, “আমাদের সরকার আরজি করের ফাইল খুলে দিয়েছে। মহিলা ও শিশুদের নিরাপত্তার জন্য আলাদা কমিশন গঠিত হয়েছে। যোগ্য অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”

ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফল নিয়েও তৃণমূলকে বিঁধতে ছাড়েননি তিনি। আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা’ ছবির জনপ্রিয় সংলাপ ধার করে বলেন, “তৃণমূল নির্বাচনী ময়দান আগেই ছেড়ে দিয়েছে। তারা স্লোগান দিয়েছিল ‘ঝুকেগা নেহি’, অথচ এখন তারা ‘ছুপ গয়া পুষ্পা’।”

সরকারি হাসপাতালের জরাজীর্ণ দশা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “সমস্ত সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা ভেঙে পড়েছে। এক প্রকল্পের টাকা অন্য খাতে নয়ছয় করা হয়েছে। উন্নয়নের জন্য আসা বালি-পাথর থেকে শুরু করে সবটাই টিএমসি নেতারা লুট করেছে। আমরা বাজেট ও আর্থিক কাঠামো খতিয়ে দেখছি। সরকারি কর্মীদের কেন্দ্রীয় হারে ডিএ দেওয়া হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নিয়োগ হবে।” মানুষ যাতে পরিষেবা পান, তার জন্য দ্রুত পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy