বীরভূমের রামপুরহাটে এক মর্মান্তিক ঘটনায় ক্লাস সেভেনের এক আদিবাসী ছাত্রীর ধর্ষিত ও খণ্ডিত পচাগলা দেহ উদ্ধারের পর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই নৃশংস ঘটনার পেছনে অভিযুক্ত হিসেবে আটক করা হয়েছে তারই স্কুলের শিক্ষক মনোজ পালকে। ঘটনার ২০ দিন পর দেহ উদ্ধার হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী, এমনকি জনরোষের শিকার হয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষকও।
গত ২৮ আগস্ট টিউশন পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় ওই কিশোরী। তার পরিবার তখনই রামপুরহাট থানায় অভিযোগ জানায় এবং শিক্ষকের জড়িত থাকার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু অভিযোগ, পুলিশ সেই সময় তাদের কথায় গুরুত্ব দেয়নি। ১ সেপ্টেম্বর মনোজ পালকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও, কোনো তথ্যপ্রমাণ না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, যদি পুলিশ সেদিন তৎপর হতো, তাহলে হয়তো মেয়েটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হতো। কিন্তু এর প্রায় তিন সপ্তাহ পর গত মঙ্গলবার সেচ নালার পাশ থেকে একটি বস্তাবন্দি অবস্থায় তার দেহের ৫টি টুকরো উদ্ধার করা হয়। এরপরই পুলিশ মনোজ পালকে গ্রেপ্তার করে। জানা গেছে, অভিযুক্তই পুলিশকে দেহ ফেলার জায়গায় নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারের পর মনোজ পালের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিভিন্ন ধরনের ‘সেক্স টয়’, ভাইব্রেটর এবং কন্ডোম। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছয় বছর আগে তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল কারণ মনোজ নানা নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়াত। এমনকি, যে বাড়িতে সে ভাড়া থাকত, সেখানেও কাজের মেয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল।
মনোজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে ওই ছাত্রীকে আটকে রেখে লাগাতার ধর্ষণ করে এবং পরে নৃশংসভাবে খুন করে। এরপর দেহটিকে প্রায় ২০টি টুকরো করে কেটে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয়। এখন পর্যন্ত দুটি বস্তা উদ্ধার হলেও, ছাত্রীর দেহের নিচের অংশ এখনও পাওয়া যায়নি। এই ঘটনায় শুধু মনোজ নয়, আরও কারও যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে উত্তেজিত গ্রামবাসী আজ স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখায়। একসময় সেই বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে, যখন তারা প্রধান শিক্ষককে স্কুল থেকে টেনে বের করে মারধর করে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নিখোঁজ হওয়ার প্রথম দিকে পুলিশ যদি যথাযথ পদক্ষেপ নিত, তাহলে হয়তো এমন পরিণতি হতো না। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকেই এই ভয়াবহ পরিণতির কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।





