রাজনৈতিক আদর্শের লড়াইয়ে তাঁরা একে অপরের ঘোর বিরোধী। কিন্তু নাগরিক স্বার্থে সব ভেদাভেদ ভুলে এক মঞ্চে আসতে চলেছেন রাজ্যের তিন হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—শুভেন্দু অধিকারী, ফিরহাদ হাকিম এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। আগামিকাল ভবানীপুর কেন্দ্রের বিবেকানন্দ পার্কে আয়োজিত হতে চলেছে এক বিশেষ পুর প্রশাসনিক বৈঠক, যা ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে কৌতূহল তুঙ্গে।
কী এই বৈঠক? দক্ষিণ কলকাতার নাগরিক সমস্যা সমাধান এবং উন্নয়নের রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে আয়োজিত এই প্রশাসনিক বৈঠকে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের পাশাপাশি সংলগ্ন আরও ছয়টি বোরোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। পুর পরিষেবার মানোন্নয়ন, রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা এবং এলাকার অন্যান্য জরুরি বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনার জন্যই এই বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য: ১. রাজনৈতিক সৌজন্য না কি কৌশল? রাজ্য রাজনীতির বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শাসক ও বিরোধী দলের তিন প্রধান নেতার একই মঞ্চে উপস্থিত হওয়াকে সাধারণ মানুষ ‘রাজনৈতিক সৌজন্য’ হিসেবে দেখলেও, ওয়াকিবহাল মহল এর পেছনে অন্য সমীকরণ খুঁজছে। ২. অঞ্চলের উন্নয়নই অগ্রাধিকার: ভবানীপুর দক্ষিণ কলকাতার প্রাণকেন্দ্র। এখানে রাজনৈতিক লড়াইয়ের চেয়ে নাগরিক সুবিধা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি দীর্ঘদিনের। মনে করা হচ্ছে, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের এলাকার সমস্যার সমাধানেই এই তিন নেতা আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হয়েছেন। ৩. প্রশাসনিক তৎপরতা: সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে একাধিক প্রশাসনিক জটিলতার খবর সামনে আসার পর, জনরোষ কমাতে এবং উন্নয়নের কাজে গতি আনতে প্রশাসন যে নড়েচড়ে বসেছে, এই বৈঠক তারই প্রমাণ।
কী থাকছে কর্মসূচিতে? আগামিকাল সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বৈঠকে স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি তাঁদের অভাব-অভিযোগ জানাতে পারবেন। এলাকার জল জমা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও আলোকসজ্জার মতো বিষয়গুলোতে কোনো ঢিলেমি থাকলে তা নিয়ে কঠোর নির্দেশ দিতে পারেন এই তিন নেতা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক সফল হলে তা রাজ্যের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের কাছেও একটি বড় বার্তা পৌঁছে দেবে—জনগণের প্রয়োজনে রাজনৈতিক রঙের চেয়ে উন্নয়নই বড়। এখন দেখার বিষয়, কালকের এই ‘প্রশাসনিক মহাযজ্ঞে’ তাঁরা একে অপরের সঙ্গে কেমন সৌজন্য বিনিময় করেন এবং বৈঠকে কোনো বড়সড় রাজনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না।





