রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণে একের পর এক বড়সড় পরিবর্তন ঘটছে। এবার সেই পরিবর্তনের হাওয়া লাগল অভিনেত্রী তথা বিধায়ক জুন মালিয়ার মন্তব্যেও। দীর্ঘ সময় ধরে তৃণমূলের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও, এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরাসরি সরব হয়ে জুন মালিয়ার মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।
কী বললেন জুন মালিয়া? সূত্রের খবর, মঙ্গলবার কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা এক প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জুন মালিয়া। সেই বৈঠকের পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকাল ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। জুন মালিয়া বলেন, “আমরা এক চরম দুঃসময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম। ল্যাম্পপোস্টের মতো অবস্থার মধ্যে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করে শুভেন্দু অধিকারী আমাদের আলোর পথ দেখিয়েছেন।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেই তাঁর প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে কাঠগড়ায় তুলে জুন মালিয়ার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৈঠকের অন্য ছবি: এই বৈঠকের একটি অন্য দিকও নজর কেড়েছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। একদিকে যখন তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের সুর শোনা যাচ্ছে, তখন অন্যদিকে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে আলোচনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেছেন ঘাটালের সাংসদ দেব। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেবকে ‘আমার ভাই’ বা ‘ব্রাদার’ বলে সম্বোধন করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে যা প্রতিশ্রুতি দেব দিয়েছে, তা পূরণ করার দায়ভার এখন আমার। ওটা আমারই প্রতিশ্রুতি।”
রাজনৈতিক তাৎপর্য: ১. নতুন সমীকরণ: এক সময়ের সতীর্থদের শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিতি এবং সেখানে মমতার বিরুদ্ধে সরব হওয়া, ইঙ্গিত দেয় যে শাসকদলের বর্তমান নেতৃত্ব বেশ বড়সড় ভাঙনের মুখে। ২. জুন মালিয়ার অবস্থান: শিউলি সাহার পর জুন মালিয়ার এহেন বিদ্রোহী মন্তব্য প্রমাণ করে যে, দলের তারকা বিধায়কদের একাংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব থেকে সরে এসে নতুন রাজনৈতিক ছাতার নিচে আশ্রয় খুঁজছেন। ৩. উন্নয়নের রাজনীতি: প্রশাসনিক বৈঠককে ঘিরে যেভাবে তৃণমূল সাংসদ-বিধায়করা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আলোচনায় বসছেন, তাতে স্পষ্ট যে রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে এখন রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজগুলোকে হাতিয়ার করে নতুন মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে।
সামগ্রিক এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য নিজের পুরনো ঘর সামলানো এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুন মালিয়ার এই ‘ল্যাম্পপোস্ট’ মন্তব্যের পর তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব কী প্রতিক্রিয়া দেয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজ্যবাসী।





