মেঘেদের দেশ কিরিবুরু-মেঘাহাতুবুরু! ঝাড়খণ্ড-ওডিশা সীমান্তের এই যমজ পাহাড়ে না গেলে জীবন বৃথা

শহর যখন কংক্রিটের জঙ্গলে হাঁসফাঁস করছে, তখন একটু শান্তির খোঁজে আমরা পাড়ি দিই পাহাড়ে। কিন্তু চেনা উত্তরবঙ্গ বা হিমাচলের বাইরেও যে এক মায়াবী মেঘের রাজ্য আছে, তার খবর রাখেন কজন? ঝাড়খণ্ড ও ওডিশা সীমান্তের ‘সারান্ডা’ অরণ্যের হৃদপিণ্ডে অবস্থিত কিরিবুরু (Kiriburu) এবং মেঘাহাতুবুরু (Meghahatuburu)—প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য। এই দুই পাহাড়কে একত্রে বলা হয় ‘টুইন হিলস’।

কেন যাবেন? সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এই দুই পাহাড় মূলত স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAIL)-এর খনি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু খনির বাইরেও এখানে রয়েছে দিগন্তবিস্তৃত ‘সারান্ডা’ অরণ্য, যা এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম শাল বন। কিরিবুরু শব্দের অর্থ ‘হাতির পাহাড়’ আর মেঘাহাতুবুরু মানে ‘মেঘেদের পাহাড়’। নামেই মালুম, এখানে মেঘেরা পাহাড়ের গায়ে আপনমনে লুকোচুরি খেলে।

কী কী দেখবেন? মেঘাহাতুবুরু থেকে সূর্যাস্ত দেখা এক অপার্থিব অভিজ্ঞতা। দিগন্তজুড়ে সাতটি পাহাড়ের খাঁজে যখন সূর্য বিদায় নেয়, তখন মনে হয় কে যেন আকাশজুড়ে আবির ছড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া রয়েছে পাম্পোস জলপ্রপাত, টয়বো জলপ্রপাত এবং মনমুগ্ধকর পহেল মেলা। ভাগ্য সহায় থাকলে ঘন জঙ্গল চিরে হাতি বা অন্য বন্যপ্রাণীর দেখাও পেয়ে যেতে পারেন। এখানকার শান্ত, নির্জন রাস্তা আর আদিম অরণ্যের গন্ধ আপনার ক্লান্তি দূর করে দেবে নিমিষেই।

কীভাবে যাবেন? হাওড়া বা টাটানগর থেকে ট্রেনে বড়বিল বা বড়জামদা স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে খুব সহজেই পৌঁছানো যায় এই যমজ পাহাড়ের দেশে। থাকার জন্য সেইল (SAIL)-এর গেস্ট হাউস বা স্থানীয় কিছু লজ রয়েছে। প্রকৃতির কোলে নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য এর চেয়ে আদর্শ জায়গা খুব কমই আছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy