মায়ের শেষ আর্তনাদ শুনল ১০ বছরের ছেলে! যৌতুকের বলি আরও এক গৃহবধূ, কাঠগড়ায় পিডব্লিউডি ইঞ্জিনিয়ার

রাজস্থানের জয়পুরের মানসরোবর এলাকায় এক পিডব্লিউডি ইঞ্জিনিয়ারের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে। ৩৬ বছর বয়সী অনু মীনার মৃত্যুর ঘটনায় স্বামী গৌতম মীনা এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে যৌতুক নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মৃতার ভাই ও পরিবারের সদস্যরা এখন দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন।

২০১৫ সালে চৌমু এলাকার বাসিন্দা গৌতম মীনার সঙ্গে অনুর বিয়ে হয়। স্বামী গৌতম বর্তমানে পিডব্লিউডি বিভাগে এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত। তাঁদের দুই সন্তান—এক ১০ বছরের ছেলে এবং ৮ বছরের মেয়ে—এই মুহূর্তে চরম মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে অনুর ওপর অকথ্য নির্যাতন চলত। লক্ষ লক্ষ টাকা ও সোনা-রুপোর গয়না দেওয়ার পরেও শ্বশুরবাড়ির লোভ মেটেনি।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, কীভাবে স্বামী গৌতম মদের নেশায় চুর হয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছে অনুর ওপর। পরিবারের সদস্যদের দাবি, গৌতম প্রতিনিয়ত স্ত্রীকে মারধর করত এবং চরিত্র নিয়ে সন্দেহ করে মানসিক নির্যাতন চালাত। এমনকি, তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ের হুমকিও দেওয়া হতো। অনুর ভাই জানিয়েছেন, ২০২২ সালেও মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাতেও অনুর মুক্তি মেলেনি। এখানেই শেষ নয়, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে অভিযুক্ত স্বামী বাড়িতে গ্যাস লিক করে স্ত্রী ও সন্তানদের মেরে ফেলার ছক কষেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই অনু এক চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি পরিবারের সদস্যদের একাধিক ভিডিও কল ও মেসেজ পাঠিয়ে নিজের ভয়ের কথা জানিয়েছিলেন।

৭ই এপ্রিল, ২০২৬-এ অনু আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হন। এখন তাঁর অবুঝ সন্তানেরা তাদের বাবার বিরুদ্ধে নির্যাতনের ভয়াবহ সব কথা আত্মীয়দের কাছে প্রকাশ করছে। মৃতার নানা রোহিতাশ মীনা ও নানি মায়া দেবী ইতিমধ্যে নাতনি ও নাতিনাতনির হেফাজত দাবি করেছেন, যাতে শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে।

মানসরোবর এসিপি অফিসে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৮ ও ৮৫ ধারায় মামলা নথিভুক্ত করেছে। পুলিশ এখন সিসিটিভি ফুটেজ, কল ডিটেইলস ও অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সমাজকর্মী ও বাসিন্দারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন। পিডব্লিউডি ইঞ্জিনিয়ারের এই দাপুটে চেহারা আর গৃহবধূর এই করুণ মৃত্যু জয়পুরজুড়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy