মসনদ হারিয়েই কলম ধরলেন মমতা! ‘দখল’ কবিতায় বুলডোজার ও অত্যাচার নিয়ে নতুন তোলপাড়

ক্ষমতার মসনদ হারানোর পর যেন নতুন এক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখছে রাজ্য। বিগত ১৫ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পর, এবার বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে নিজের ক্ষোভ ও যন্ত্রণাকে প্রকাশ করতে তিনি বেছে নিলেন তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী—কবিতার কলম। সদ্যই ইংরেজিতে ‘Brave’ শিরোনামে এক কবিতা লিখে আত্মবিশ্বাসের বার্তা দেওয়ার পর, এবার বাংলায় এক তীক্ষ্ণ ও ধারালো কবিতা লিখলেন তিনি। ‘দখল’ শিরোনামের এই কবিতায় মমতা বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে তুলে ধরে একের পর এক প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন নতুন সরকারের দিকে।

কবিতার প্রতিটি ছত্রে মিশেছে শাসক পরিবর্তনের পরবর্তী পরিস্থিতির তিক্ত অভিজ্ঞতা। মমতা লিখেছেন, ‘দখল মুক্ত করতে হবে / অসহায় দুর্বল মানুষদের। আর কত বুলডোজার? আর কতো অত্যাচার? আর কতো দানবিকতা?’ তাঁর লেখায় উঠে এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল নেতাদের ধরপাকড় ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ। ‘শতশত গ্রেপ্তার কেন? কত পুরস্কার পাচ্ছে?’—এমন পঙ্‌ক্তিগুলো যেন সরাসরি বর্তমান প্রশাসনের কার্যপদ্ধতির ওপর কটাক্ষ। মমতার নিশানায় রয়েছে ‘নেতার তাবেদার’ হয়ে ওঠা ‘ডান্ডাওয়ালা রক্ষাকর্তারা’।

তবে কবিতার সবথেকে উল্লেখযোগ্য ও কৌতূহলী অংশটি হলো তার রাজনৈতিক বার্তা। মমতা লিখেছেন, ‘জিতলেই যদি? তবে মানুষ কেন আতঙ্কিত? কেনোই না সন্ধেতে/ নামছে মধ্যরাত? ভেবেছো কি একবার?’ নাম না করে তিনি সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন। মমতার কথায়, যাঁরা আজ দখলমুক্ত করার কথা বলছেন, তাঁদের নিজেদের মনের জঞ্জালই আগে দখলমুক্ত করা উচিত। ‘জঞ্জাল এ ঢেকেছে তোমাদের শরীর/ নিজেদের মনের জঞ্জালকে/ আগে দখল মুক্ত করো’—এই লাইনের মাধ্যমে তিনি বর্তমান শাসকদলের নৈতিকতাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১৫ বছর নিরবিচ্ছিন্ন শাসনে থাকা একজন নেত্রী যখন হঠাৎ করে ক্ষমতার বাইরে গিয়ে এমন প্রতিবাদী কবিতা লেখেন, তখন তা নিছক সাহিত্যচর্চা নয়, বরং রাজনীতির এক সুদূরপ্রসারী কৌশল। ইংরেজিতে লেখা ‘Brave’ কবিতায় তিনি শয়তানদের বিনাশ ও আত্মবিশ্বাসের কথা শুনিয়েছিলেন, আর বাংলায় লেখা ‘দখল’ কবিতায় তিনি আক্রমণ শানালেন বর্তমান সরকারের প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শত ব্যস্ততার মধ্যেও মমতা বরাবরই সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা করে এসেছেন। তাঁর আঁকা ছবি বা লেখা কবিতা প্রায়শই শিরোনামে উঠে এসেছে। কিন্তু এবারের এই কবিতাগুলো যেন সেই পুরনো ধারা থেকে ভিন্ন। এখানে সুর নরম নয়, বরং রাজনীতির কঠিন বাস্তবতাকে কলমের ডগায় শান দিয়ে প্রতিবাদের হাতিয়ার করা হয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর নতুন সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপকে যখন মমতা এই কবিতার মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন, তখন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—আগামী দিনে কি কলমই হতে চলেছে তাঁর প্রধান রাজনৈতিক অস্ত্র? নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো আন্দোলনের নীল-নকশা? আপাতত সেই উত্তরের অপেক্ষাতেই রাজনৈতিক কারবারিরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy