“ভালোয় ভালোয় মামলা তোলো, নাহলে জ্বালিয়ে দেব বাড়ি!” পকসো কেসে চাপে পড়ে খুনের হুমকি দিচ্ছে বিজেপি!

নদিয়ার শান্তিপুরে এক নাবালিকার পরিবারের ওপর নেমে এল চরম দুঃসময়। প্রায় দু’বছর আগে সংঘটিত এক নৃশংস পকসো (POCSO) মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন, ফের অভিযোগ উঠল বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নির্যাতিতার পরিবারকে প্রাণনাশের ও বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে খোদ বর্তমান বিজেপি বুথ সভাপতি। ঘটনার দু’দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা ও তৃণমূল নেতৃত্ব।

ঘটনার সূত্রপাত প্রায় দু’বছর আগে। অভিযোগ, তৎকালীন নৃসিংহপুরের বিজেপির বুথ সভাপতি মনোরঞ্জন হালদার প্রতিবেশী এক ২ বছরের শিশুকন্যাকে একা পেয়ে যৌন হেনস্তা করে। শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের লোকজন শান্তিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মেডিক্যাল রিপোর্ট ও প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ মনোরঞ্জন হালদারকে গ্রেফতার করে, বর্তমানে সে জেল হেফাজতে রয়েছে।

এখন অভিযোগ, সেই ক্ষমতা প্রদর্শনের নেশায় মেতেছে বর্তমান বিজেপি বুথ সভাপতি সুধীর দাস। গত শুক্রবার রাতে সে তার দলবল নিয়ে ওই নির্যাতিতার বাড়িতে চড়াও হয়। পরিবারের দাবি, সুধীর দাস সরাসরি হুমকি দেয়, “এখন ক্ষমতার পরিবর্তন হয়েছে, কেউ ঠেকাতে আসবে না। ভালোয় ভালোয় মামলা তুলে নে, নাহলে আগুন লাগিয়ে গোটা পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলব।” এই ঘটনায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ওই দিনমজুর পরিবার। তারা কোনোমতে ফের শান্তিপুর থানার দ্বারস্থ হয়, কিন্তু অভিযোগ দায়েরের ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও সুধীর দাস-সহ ৬ জন অভিযুক্তের কেউই পুলিশের নাগাল পায়নি।

ভুক্তভোগী নাবালিকার মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ। দু’বছর আগে আমার মেয়ের ওপর যে অমানবিক অত্যাচার হয়েছিল, তার বিচার চেয়েছিলাম। এখন খুনি মনোরঞ্জনের পরিবারের সঙ্গে মিলে বর্তমান বুথ সভাপতি সুধীর দাস আমাদের হুমকি দিচ্ছে। আমার স্বামী একা কাজে যায়, আমরা এখন বাড়িতে থাকতেই ভয় পাচ্ছি।”

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে সুধীর দাস বলেন, “আমরা বাড়িতে গিয়েছিলাম শুধুমাত্র অনুরোধ করতে। মারার হুমকি দিইনি, শুধু মামলা তুলে নেওয়ার আর্জি জানিয়েছি।” তবে বাড়িতে দলবল নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, “বিজেপির ওপরতলার নেতারা শান্তির কথা বললেও, নিচুতলার কর্মীরা গুন্ডামি চালাচ্ছে। পুলিশ অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করুক।”

রানাঘাট জেলা পুলিশ সুপার আশিস মৈজ্য জানিয়েছেন, “পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর রুজু হয়েছে। তদন্ত শুরু হয়েছে এবং খুব দ্রুতই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে।” তবে প্রশ্ন উঠছে, একটি পকসো মামলার বাদীপক্ষকে এমন প্রকাশ্য হুমকির পরেও পুলিশ কেন অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে গড়িমসি করছে? বিচারপ্রার্থী পরিবারের সুরক্ষার দায়িত্ব কার? উত্তর খুঁজছে শান্তিপুর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy