বিয়ে মানেই কি যৌন সম্পর্কের ছাড়পত্র? নাকি এর বাইরেও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার কোনো জায়গা আছে? সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, বিয়ের আগে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যৌন সম্পর্ককে ‘নৈতিক অধঃপতন’ বা অনৈতিক কাজ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। আদালতের এই রায়কে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
তসলিমার পোস্ট ও সমর্থন: সুপ্রিম কোর্টের এই রায় প্রকাশ্যে আসার পরেই লেখিকা তসলিমা নাসরিন তাঁর ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি আদালতের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানিয়ে লিখেছেন, সমাজ ও ধর্মীয় গোঁড়ামির বেড়াজালে আটকে থাকা যৌনতার চিরাচরিত ধারণা ভেঙে ফেলার জন্য এই রায় অত্যন্ত জরুরি ছিল। তসলিমার মতে, শারীরিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ইচ্ছাধীন বিষয় এবং একে কোনো আইনি বা নৈতিকতার মাপকাঠিতে বিচার করা উচিত নয়।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রেক্ষাপট: আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, লিভ-ইন সম্পর্ক বা বিয়ের আগে শারীরিক মিলন কোনো অপরাধ নয়। ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যায় না, যতক্ষণ না তা কোনো আইনি বাধ্যবাধকতার পরিপন্থী হচ্ছে। আদালত এই রায়ের মাধ্যমে মূলত প্রথাগত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর আইনি অধিকারকে প্রাধান্য দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।
কেন বিতর্ক? তসলিমা নাসরিনের এই সমর্থন পোস্টটি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একাংশ আদালতের এই রায় ও তসলিমার সমর্থনের প্রশংসা করলেও, রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থার ধারক-বাহকরা একে ‘সংস্কৃতির অবক্ষয়’ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন। দীর্ঘকাল ধরেই তসলিমা নাসরিন নারী স্বাধীনতা এবং শরীরের অধিকার নিয়ে সরব। তাঁর এই মন্তব্য সেই বিতর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব: আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ আগামী দিনে লিভ-ইন সম্পর্ক এবং বৈবাহিক আইন সংক্রান্ত অনেক মামলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে। সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে আইনের এই আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টা কতদূর সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





