বিধায়ক নয়, এবার সরাসরি সেবক! শিলিগুড়িতে ডা. শঙ্কর ঘোষের অভিনব জনসংযোগ

উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র শিলিগুড়িতে জনসংযোগের নতুন নজির গড়লেন বিজেপি বিধায়ক ডা. শঙ্কর ঘোষ। ‘সরাসরি শঙ্কর’ (Sorasori Shankar) কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছেন শিলিগুড়ির সাধারণ মানুষের দুয়ারে। রবিবার শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে বিধায়ক শুনলেন স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত নাগরিক সমস্যা, গ্রহণ করলেন অভিযোগ এবং মানুষের প্রত্যাশার কথা।

মুখ্যমন্ত্রী উত্তরকন্যা সফরের সময় যে উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সেই নির্দেশ মেনেই এই কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করে তুলেছেন ডা. ঘোষ। রবিবার শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সরজমিনে ঘুরে বিধায়ক সাধারণ মানুষের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো, সরাসরি জনগণের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং সেগুলিকে প্রশাসনিক স্তরে পৌঁছে দিয়ে দ্রুত সমাধানের পথ প্রশস্ত করা।

এদিন ডা. শঙ্কর ঘোষ বলেন, “এটি আমাদের ধারাবাহিক কর্মসূচিরই অংশ। আগে থেকেই আমি নিয়মিত ওয়ার্ড ভিজিট করতাম, মানুষের পরামর্শ ও অভিযোগ শুনতাম। এখন আমরা সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি, তাই দায়িত্ব বেড়েছে। মানুষের বিভিন্ন আকাঙ্ক্ষা, অভিযোগ ও সমস্যা রয়েছে। আমি সেই সমস্যাগুলি নোট করছি এবং সরকারি নীতি অনুযায়ী সেগুলির দ্রুত সমাধানের পরিকল্পনা নিচ্ছি।” বিধায়কের কথায় স্পষ্ট, তিনি শিলিগুড়িতে একটি ‘জনগণের সরকার’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছেন, যেখানে শাসক ও জনগণের মধ্যে কোনো দূরত্ব থাকবে না।

এদিনের অনুষ্ঠানে শতাধিক সাধারণ মানুষ ভিড় জমিয়েছিলেন। কেউ জানিয়েছেন জলনিকাশি সমস্যার কথা, কেউ তুলে ধরেছেন রাস্তাঘাটের বেহাল দশা, আবার কারও অভিযোগ আবর্জনা অপসারণ, বিদ্যুৎ ও পানীয় জল সরবরাহ নিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, ডা. ঘোষ বরাবরই এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করেন, তবে এবার সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে সমাধানের আশায় বুক বেঁধেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের মতে, ‘সরাসরি শঙ্কর’ কর্মসূচি কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়। প্রতি সপ্তাহে শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিধায়ক এভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন। বিধায়কের এই স্বচ্ছ ও মানবিক প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় নেতৃত্বের কথায়, “শঙ্কর ঘোষ শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, একজন ডাক্তার হিসেবেও তিনি দীর্ঘকাল মানুষের সেবা করে আসছেন। মানুষের প্রতি তাঁর এই ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকেই ‘সরাসরি শঙ্কর’-এর জন্ম।”

ডা. শঙ্কর ঘোষ নিশ্চিত করেছেন যে, শিলিগুড়ি পুরনিগমের ওয়ার্ডগুলির সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখা হবে। প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রতিটি সমস্যার দ্রুত সুরাহা করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। শিলিগুড়ির রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই কর্মসূচি সফল হলে একদিকে যেমন সরকারি পরিষেবার মান বাড়বে, তেমনই সাধারণ মানুষের সঙ্গে দলের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। বিধায়কের এই উদ্যোগকে ঘিরে এখন শিলিগুড়ির অলিগলিতে ইতিবাচক চর্চা শুরু হয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy