২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের সক্রিয় হাবরা স্টেট জেনারেল হাসপাতাল। সরকারি হাসপাতালে দালাল-চক্রের দাপট যেন কিছুতেই কমছে না। এবার এক প্রসূতির পরিবারকে রক্ত এনে দেওয়ার নাম করে মোটা টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল খোদ হাসপাতালের গেটম্যান লিটন দেবনাথের বিরুদ্ধে। নবনির্বাচিত বিধায়ক দেবদাস মণ্ডলের কড়া হুঁশিয়ারির পরেই এমন ঘটনা সামনে আসায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হাবরা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন জিয়লডাঙার বাসিন্দা কবিতা শী। শুক্রবার সিজারের মাধ্যমে তিনি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। প্রসবের পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা দুই ইউনিট রক্ত জোগাড় করতে বলেন। অভিযোগ, এই সুযোগটিই কাজে লাগান হাসপাতালের গেটম্যান লিটন। প্রসূতির পরিবারের কাছ থেকে এক ইউনিট রক্তের বিনিময়ে তিনি ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেন। যদিও শেষ পর্যন্ত প্রসূতিকে কলকাতা স্থানান্তরিত করার পথে দমদম বিমানবন্দরের কাছে তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে শুধু এই একটি ঘটনা নয়, অন্য এক রোগীর পরিবারও অভিযোগ করেছে যে, রক্ত দেওয়ার নাম করে লিটন তাঁদের কাছে চার হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। এই দুই ঘটনারই কিছু ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, টাকার বিনিময়ে রক্ত জোগাড়ের বিষয়ে প্রশ্ন করতেই গেটম্যান লিটন বাইক নিয়ে দ্রুত চম্পট দিচ্ছেন। যদিও অভিযুক্ত গেটম্যান তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই নবনির্বাচিত বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল হাবরা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেদিন দালাল-চক্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সরব ছিলেন স্বয়ং লিটনই! অভিযোগ, তিনি সেদিন বিধায়কের কাছে দাবি করেছিলেন, বিজেপি করেন বলেই তাঁকে কোণঠাসা করা হচ্ছে। অথচ তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে দালাল-চক্র চালানোর অভিযোগ উঠল।
বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “১৫ বছরের লালিত অভ্যাস অনেকে এখনও ছাড়তে পারেননি। আমি সুপারকে তদন্ত করতে বলেছি। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালে দালাল-চক্র কোনোভাবেই বরদাস্ত করব না। আমরা হাসপাতালের ভেতরের কর্মসংস্কৃতিও পরিচ্ছন্ন করব, এটা হাবরাবাসীকে নিশ্চিত করছি।” হাসপাতাল সুপার বিবেকানন্দ বিশ্বাস জানিয়েছেন, ঘটনাটি জানার পর সহকারী সুপারিনটেনডেন্টদের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





