বকরিদ কেন পালন করা হয়? শয়তানকে পাথর মারার আড়ালের এই ঐতিহাসিক কাহিনী জানলে অবাক হবেন!

এই বছর ভারতে পবিত্র ঈদুল আযহা বা বকরিদ উৎসব আগামী ২৮শে মে পালিত হতে চলেছে। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি অন্যতম প্রধান উৎসব, যা হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর আল্লাহতালার প্রতি অটুট বিশ্বাস ও আত্মত্যাগের প্রতীক। এই পবিত্র দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সৌদি আরবের মক্কার নিকটবর্তী মিনা প্রান্তরের এক অনন্য ও ঐতিহাসিক কাহিনী। ইসলামের বিশ্বাস অনুযায়ী, নবী ইব্রাহিমকে যখন আল্লাহ পরীক্ষা করছিলেন, তখন শয়তান তাঁকে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করেছিল। সেই শয়তানকে পরাজিত ও অপমানিত করার স্থানের নামই হলো মিনা।

ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী, আল্লাহ তায়ালা নবী ইব্রাহিম (আঃ)-এর আনুগত্য পরীক্ষা করার জন্য তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু—তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ)-কে উৎসর্গ করার নির্দেশ দেন। পুত্রের প্রতি অসীম ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও, আল্লাহর প্রতি পরম সমর্পণে ইব্রাহিম (আঃ) নিজের প্রিয় সন্তানকে কুরবানি দিতে প্রস্তুত হন। তিনি পুত্রকে নিয়ে মক্কার মিনা প্রান্তরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

পথিমধ্যে ইবলিস বা শয়তান নবী ইব্রাহিমকে নিরুৎসাহিত করার জন্য তিনবার সামনে এসে দাঁড়ায়। প্রথমবার শয়তান তাঁর মনে মায়ার উদ্রেক করে বলে, “নিজের পুত্রকে কীভাবে মারবে? ফিরে যাও।” কিন্তু আল্লাহর প্রতি ইব্রাহিমের ঈমান ছিল অটল। তিনি শয়তানকে তাড়িয়ে দেওয়ার জন্য নুড়ি পাথর নিক্ষেপ করেন। এভাবে শয়তান তিনবার ভিন্ন ভিন্ন পথে তাঁকে প্ররোচিত করার চেষ্টা করে, কিন্তু প্রতিবারই ইব্রাহিম (আঃ) পাথরের আঘাতে তাকে পরাস্ত করেন। শয়তানের প্ররোচনা থেকে মুক্ত হয়ে তিনি আল্লাহর আদেশে অবিচল থাকেন।

অতঃপর, ইব্রাহিম (আঃ) যখন তাঁর পুত্রের গলায় ছুরি চালাতে উদ্যত হলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে আল্লাহ তায়ালা সন্তুষ্ট হয়ে জিবরাঈল (আঃ)-এর মাধ্যমে হযরত ইসমাইলের পরিবর্তে একটি দুম্বা বা ছাগল পাঠিয়ে দেন। এভাবেই অলৌকিকভাবে ইসমাইল (আঃ)-এর প্রাণ রক্ষা পায় এবং এই আত্মত্যাগের স্মরণে বকরিদে কোরবানির প্রথার সূচনা হয়।

মিনার ময়দানে আজও এই ঘটনার স্মৃতি অমলিন। হজ্জ তীর্থযাত্রার সময় হাজিরা মিনার সেই ময়দানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা তিনটি স্তম্ভ বা জামারাতের ওপর নুড়ি পাথর নিক্ষেপ করেন। এটিকেই ‘আলি আল-জামারাত’ বলা হয়। এই তিনটি স্তম্ভ মূলত সেই তিনটি স্থানকে নির্দেশ করে, যেখানে শয়তান নবী ইব্রাহিমকে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করেছিল। তীর্থযাত্রীরা এই প্রথার মাধ্যমে আজও শয়তানের অসৎ প্ররোচনাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। বকরিদ শুধুমাত্র পশু কুরবানির উৎসব নয়, এটি মূলত মানুষের ভেতরের অহংকার ও শয়তানি প্রবৃত্তিকে কুরবানি করার এক পবিত্র শিক্ষা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy