দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে বিতর্কিত ‘ধাম’ শব্দটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে ফেলা হলো। মঙ্গলবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখন থেকে এই তীর্থস্থানটি ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ হিসেবে পরিচিত হবে।
২০২৫ সালে দিঘার এই মন্দিরের উদ্বোধনের সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকার একে ‘জগন্নাথ ধাম’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। এই নামকরণ ঘিরেই আপত্তি তোলে ওডিশার সরকার এবং পুরীর শ্রী জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত সমাজ। তাদের যুক্তি ছিল, ১২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঐতিহাসিক ও শাস্ত্রীয়ভাবে একমাত্র পুরীর মন্দিরই ‘জগন্নাথ ধাম’ নাম ব্যবহারের অধিকারী। এই ঐতিহ্য রক্ষায় ওডিশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি বিষয়টি নিয়ে চিঠি লিখে নবান্নের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।
নবান্নে সম্বিত পাত্রের উপস্থিতি এদিন সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে উপস্থিত ছিলেন পুরীর সাংসদ সম্বিত পাত্র এবং রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। ওডিশার মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধপত্র সম্বিত পাত্রের মাধ্যমেই রাজ্য সরকারের কাছে পৌঁছেছিল। সেই পত্রের প্রেক্ষিতে মন্ত্রিসভার সঙ্গে আলোচনার পরই শুভেন্দু অধিকারী এই সিদ্ধান্ত নেন।
পুজো-অর্চনায় কোনো পরিবর্তন নেই নাম পরিবর্তন হলেও মন্দিরের নিত্যপুজো ও অন্যান্য রীতি-নীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, নিয়ম মেনেই নিয়মিত জগন্নাথ দেবের পুজো এবং ভজন চলবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওডিশার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং ধর্মীয় ভাবাবেগের মর্যাদা রক্ষায় শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।





