রাজনৈতিক দাপট আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষের জীবন। পুরাতন মালদহে কাকা ও ভাইপোর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মাঝখানে পড়ে চরম আতঙ্কের প্রহর গুনছে ৩৪টি পরিবার। অভিযোগ, এই দ্বন্দ্বে সরাসরি নাম জড়িয়ে দেওয়ায় ‘অপরাধী’ তকমা সেঁটে দেওয়া হয়েছে এই পরিবারগুলোর গায়ে। মিথ্যে মামলায় জেলে যাওয়ার ভয়ে এখন ঘরছাড়া হওয়ার উপক্রম হয়েছে তাদের।
কী ঘটেছে পুরাতন মালদায়? স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘ সময় ধরেই এলাকাটির আধিপত্য নিয়ে কাকা ও ভাইপোর মধ্যে বিবাদ চলছে। ক্ষমতা দখলের এই লড়াইয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশকে কোনো এক পক্ষের সমর্থক হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাদের ওপর এই তকমা লেগেছে, তাদের দাবি, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই সরাসরি যুক্ত নন তারা। তবুও ব্যক্তিগত রেষারেষির বলি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
ভয়ের কারণ: ভুক্তভোগী ৩৪টি পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ:
মিথ্যে মামলা: কোনো কারণ ছাড়াই তাদের নামে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে।
অব্যাহত হুমকি: প্রায়ই বাড়িতে চড়াও হয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে পুরুষ সদস্যরা ভয়ে বাড়িতে রাত কাটাতে পারছেন না।
সামাজিক অবমাননা: এলাকায় তাদের ‘অপরাধী’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যার ফলে ছোট থেকে বড়—প্রত্যেকেই চরম মানসিক অবসাদে ভুগছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা কী? ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, তারা স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো সুরাহা পাননি। তাদের প্রশ্ন, “রাজনীতির এই খেলায় আমরা কেন বলির পাঁঠা হব? আমাদের কী অপরাধ যে জেলে যাওয়ার ভয় মাথায় নিয়ে বাঁচতে হবে?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পুরাতন মালদহের এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব যখন ব্যক্তি বা পারিবারিক স্তরে নেমে আসে, তখন সাধারণ মানুষের জীবন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আপাতত ওই ৩৪টি পরিবারের একটাই আবেদন, প্রশাসন যেন বিষয়টিতে নিরপেক্ষ তদন্ত করে তাদের এই ‘অপরাধী’ তকমা থেকে মুক্তি দেয়।





