বাঙালির ভ্রমণ মানেই যে ডেস্টিনেশনগুলোর নাম সবার আগে মাথায় আসে, তার মধ্যে তালিকার শীর্ষে চিরকালই থাকে দার্জিলিং। হিমালয়ের কোলে অবস্থিত শৈলশহরটির সৌন্দর্য, চা বাগান, পাইন গাছের সারি আর কাঞ্চনজঙ্ঘার হাতছানি পর্যটকদের বারবার টানে। তবে এই পাহাড়ের রানিকে দেখার অভিজ্ঞতাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় হেরিটেজ টয়ট্রেন। শৈলশহরের ঐতিহ্যের এই অংশটি নিয়ে পর্যটকদের উন্মাদনা চিরকালীন। আর সেই উন্মাদনার জেরেই এবার টয়ট্রেন গড়ল এক নতুন ইতিহাস। চলতি বছরের মে মাসে টিকিট বিক্রির নিরিখে গত পাঁচ বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে ফেলেছে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে (DHR)।
রেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এবার মে মাসে ডিএইচআর-এর জয় রাইড এবং অন্যান্য যাত্রাপথে টিকিটের চাহিদা ছিল আকাশচুম্বী। এই বিপুল চাহিদার ফলে রেলের আয়ের পরিমাণও হয়েছে চোখে পড়ার মতো। চলতি বছরের মে মাসে ডিএইচআর ৩৯৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার রেকর্ড আয় করেছে। গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের মে মাসে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩৫৮ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এই বৃদ্ধির হার পর্যটন শিল্পের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত।
বিগত পাঁচ বছরের মে মাসের আয়ের তুলনামূলক চিত্র দেখলে বোঝা যায় টয়ট্রেনের জনপ্রিয়তা কীভাবে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২২ সালের মে মাসে আয় হয়েছিল ৩১৯ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা। ২০২৩ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫৮ লক্ষ ১৮ হাজার টাকায়। তবে ২০২৪ সালে সেই আয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ২৮৮ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকায় নেমে এসেছিল। কিন্তু সেই খরা কাটিয়ে ২০২৫ সালে ফের ঘুরে দাঁড়ায় ডিএইচআর, আয় বেড়ে হয় ৩৫৮ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। আর ২০২৬ সালে সমস্ত রেকর্ড ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে ৩৯৫ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁয়ে ফেলেছে এই ঐতিহ্যবাহী ট্রেন।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, পর্যটকদের প্রবল চাহিদা মেটাতে রেলওয়ে পরিষেবা আরও উন্নত করার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। বর্তমান বুকিং ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করে রেল কর্তৃপক্ষ আশাবাদী যে, চলতি জুন মাসেও আয়ের এই গতি অব্যাহত থাকবে এবং তা ৩৭০ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যাবে। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই ঐতিহ্যবাহী রেলওয়েকে রক্ষা করা এবং পর্যটকদের ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলাই এখন রেল কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য। পাহাড়ের টানে আসা পর্যটকরা যেভাবে টয়ট্রেনকে ভালোবেসে গ্রহণ করেছেন, তা এই ঐতিহাসিক রেলওয়ের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।





