ভারতের পরমাণু নীতি এবং সামরিক কৌশল নিয়ে সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর ২০২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, ভারত তাদের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক কৌশল থেকে কিছুটা সরে এসে সম্ভবত ‘শান্তিকালীন মোতায়েন’ বা ‘পিসটাইম ডিপ্লয়মেন্ট’-এর পথে হাঁটছে।
মূল যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে:
অস্ত্র মোতায়েনের ইঙ্গিত: এতদিন পর্যন্ত বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল, ভারত শান্তিকালে তাদের পরমাণু ওয়ারহেড এবং মিসাইল লঞ্চারগুলোকে আলাদা করে রাখে। কিন্তু সিপিরি-র দাবি, ভারত এখন সম্ভবত একটি সীমিত সংখ্যক পারমাণবিক ওয়ারহেড মিসাইলের সঙ্গে যুক্ত করে রাখছে (বিশেষ করে সাবমেরিন লঞ্চড মিসাইলের ক্ষেত্রে)।
কেন এই জল্পনা? সাধারণত কোনো সংঘাতের পরিস্থিতির আগে মিসাইল ও ওয়ারহেড আলাদা রাখাই ভারতের স্বীকৃত নীতি ছিল, যা দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর। কিন্তু সিপিরি-র সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভারতের নতুন সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা (Sea-based deterrence) আরও সক্রিয় এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
ভারত কি নীতি পরিবর্তন করেছে? আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত এখনও তার ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ (No First Use – অর্থাৎ পরমাণু অস্ত্র আগে ব্যবহার না করা) নীতিতে অটল। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তাপ—বিশেষ করে চিন ও পাকিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ভারত তাদের ‘ক্রেডিবল মিনিমাম ডিটারেন্স’ (Credible Minimum Deterrence) বা বিশ্বাসযোগ্য ন্যূনতম প্রতিরোধ নীতিকে আরও কার্যকর ও অপারেশনাল করে তুলছে।
কী জানাচ্ছে সরকারি সূত্র? ভারত বরাবরই তাদের পরমাণু নীতিকে একটি ‘দায়িত্বশীল’ অস্ত্রধারী রাষ্ট্রের নীতি হিসেবে তুলে ধরেছে। সরকার স্পষ্ট করেছে যে, তাদের সমস্ত পারমাণবিক কার্যক্রমের লক্ষ্য কেবল আত্মরক্ষা এবং প্রতিরোধ তৈরি করা। সিপিরি-র রিপোর্টে মোতায়েনের যে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তা প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন এবং সাবমেরিন থেকে পারমাণবিক মিসাইল ছোড়ার সক্ষমতা (Nuclear Triad) বৃদ্ধির অংশ হতে পারে, যা কেবল প্রতিরক্ষামূলক কৌশলের পরিপূরক।
সারসংক্ষেপ: ভারতের পরমাণু অস্ত্রাগার ২০২৫ সালের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ১৯০-এ দাঁড়িয়েছে। কৌশলগত দিক থেকে ভারত এখন আরও বেশি নজর দিচ্ছে দীর্ঘ পাল্লার মিসাইল এবং সাবমেরিন থেকে হামলার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর। নীতিগতভাবে কোনো বড় পরিবর্তনের ঘোষণা না দিলেও, সামরিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে ভারত যে আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘অপারেশনাল রেডি’ বা ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত অবস্থায় থাকছে, তা এই রিপোর্ট থেকে স্পষ্ট।





