প্রাক্তন মডেল তথা অভিনেত্রী ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নজিরবিহীন মোড়। প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে গাফিলতি ও অসংগতির অভিযোগে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে রবিবার সকালে ভোপালে শুরু হয়েছে অভিনেত্রীর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত। দিল্লি থেকে আসা অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর চার সদস্যের একটি বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ড এই জটিল প্রক্রিয়ার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রেক্ষাপট ও পরিবারের দাবি: গত ১২ মে ভোপালের কাটারা হিলস এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ত্বিষার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিনেত্রীর পরিবারের অভিযোগ ছিল, পণের জন্য অত্যাচার ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে। শনিবার ত্বিষার বাবা নবনিধি শর্মা এইমস-এর মেডিক্যাল বোর্ডের কাছে একটি বিস্তারিত আবেদন জমা দেন। সেখানে তিনি প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্টে থাকা একাধিক খামতি ধরিয়ে দিয়েছেন:
শারীরিক আঘাত: শরীরে থাকা একাধিক কালশিটে ও ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন (Blunt force injuries) প্রথম রিপোর্টে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষার অভাব: মৃত্যুর কারণ জানতে ঘাড়ের প্রয়োজনীয় এক্স-রে বা রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা করা হয়নি।
মৃত্যুর স্বরূপ: এটি কি সত্যিই আত্মহনন (Hanging) নাকি শ্বাসরোধ করে খুনের (Strangulation) ঘটনা, তা বিজ্ঞানসম্মতভাবে যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
ভিসেরা রিপোর্ট: টক্সিকোলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে দেহে বিষক্রিয়া বা মাদকজাতীয় কিছু ছিল কি না, তা স্পষ্ট করার আর্জি জানানো হয়েছে।
আইনি পরিস্থিতি: এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত ত্বিষার স্বামী সমর্থ সিং (যিনি পেশায় আইনজীবী) গত শুক্রবার জবলপুর থেকে গ্রেফতার হয়েছেন। ভোপাল আদালত তাঁকে ৭ দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠিয়েছে। শাশুড়ি গিরিবালা সিং-এর বিরুদ্ধেও পণের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এইমস-এর এই দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে চাবিকাঠি হতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
রবিবার বিকেলের মধ্যেই এই ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, যার পর অভিনেত্রীর শেষকৃত্য সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।





