তৃণমূল ভাঙলেন কাকলি! লোকসভায় নতুন ব্লক, মমতা-অভিষেককে বড় ধাক্কা?

তৃণমূল কংগ্রেসে বড়সড় ভাঙন! দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভের আগুন অবশেষে প্রকাশ্যে। লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের সাংসদরা সরাসরি এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে স্পিকার ওম বিড়লাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছেন। এই বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্বে রয়েছেন তৃণমূলের লোকসভা নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

২০ সাংসদের নতুন ব্লক সূত্রের খবর, কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে নেতা এবং শতাব্দী রায়কে ডেপুটি নেতা করে লোকসভায় তৃণমূলের একটি নতুন ব্লক তৈরি করা হয়েছে। কাকলি দাবি করেছেন, তাঁদের এই চিঠিতে অন্তত ২০ জন সাংসদ সই করেছেন এবং আরও কয়েকজন প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন। এই নাটকীয় মোড় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

যাঁরা বিদ্রোহের বাইরে এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বাইরে থেকে গিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায় ও কীর্তি আজাদের মতো হাই-প্রোফাইল নেতারা। রাজ্যসভার ক্ষেত্রেও ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, সাগরিকা ঘোষদের এই ব্লকের বাইরে রাখা হয়েছে।

কেন এই বিদ্রোহ? কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের অভাব এবং সাংসদদের মতামতের গুরুত্ব না থাকায় আমরা এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে আমরা এনডিএ-র সঙ্গে থেকে কাজ করতে চাই।” দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্দরে যে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল, তা আজ চূড়ান্ত রূপ নিল।

রাজনৈতিক সমীকরণ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং একক নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ থেকেই এই বড় বিদ্রোহ। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে। তবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এটিকে ‘বিজেপির নোংরা চক্রান্ত’ বলে অভিহিত করেছে।

২০ জন সাংসদ এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়ায় লোকসভায় তৃণমূলের শক্তি কার্যত তলানিতে ঠেকতে পারে। এখন প্রশ্ন, এই বিদ্রোহের প্রভাব আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভিত কতটা নড়বড়ে করবে? আপাতত শীর্ষ নেতৃত্বের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy