সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবছে মহেশতলা। বেহাল নিকাশি ব্যবস্থার চরম মূল্য চোকাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দারা। হাঁটুসমান জল জমে থাকা রাস্তায় নিত্যদিনের দুর্ভোগ এখন এক ভয়াবহ জনবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। ক্ষুব্ধ জনতা হাতে কোদাল, বাঁশ, এমনকি ছাঁকনি জাল নিয়ে নেমেছেন রাস্তায়। তাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রশাসনের উদাসীনতাই আজকের এই পরিস্থিতির মূল কারণ।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই মহেশতলার বিভিন্ন এলাকায় জল জমার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে না পেরে, স্কুল-কলেজে যেতে না পেরে এবং দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটায় ফুঁসে ওঠেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন স্থানীয়রা কোদাল, বাঁশ এবং ছাঁকনি জাল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। জমানো জল সরানোর ব্যর্থ চেষ্টা এবং একইসঙ্গে রাস্তা কেটে প্রতীকী অবরোধ শুরু করেন তারা।
বিক্ষোভকারীরা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যাওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। শিশুদের স্কুলে যাওয়া থেকে শুরু করে অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই চরম বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে অভিযোগ তাদের।
পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে সরানোর চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে পুলিশের তীব্র বচসা শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ তাদের সমস্যার কথা না শুনে উল্টে বলপ্রয়োগের চেষ্টা করছে। পুলিশের তরফে অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার এবং রাস্তা সচল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনা আবারও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার নিকাশি ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতিকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে প্রশাসন পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে এই জলযন্ত্রণা আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।





