চাঁদে পাকাপাকি ঘরবাড়ি বানানোর পথে নাসা! ২০২৬-এই শুরু তিনটি ঐতিহাসিক মিশন

চাঁদের বুকে এবার স্থায়ী মানব বসতি গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল নাসা (NASA)। ২০২৬ সালেই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মিশনের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করতে চলেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি। কয়েকশো মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে চাঁদের দুর্গম এলাকায় ল্যান্ডার, রোভার এবং ড্রোন পাঠানোর প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে।

এই মিশনে নাসা একা নয়, তাদের সাথে থাকছে চারটি বেসরকারি বাণিজ্যিক সংস্থা। মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মহাজাগতিক বস্তুর ওপর বসতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এত বড় কর্মযজ্ঞ শুরু হচ্ছে। নাসার লক্ষ্য, চাঁদের উত্তর মেরু এবং দক্ষিণ মেরুকে কেন্দ্র করে এমন এক পরিকাঠামো গড়ে তোলা, যা ভবিষ্যতে মঙ্গল অভিযানের জন্য ‘লঞ্চপ্যাড’ হিসেবে কাজ করবে।

নাসার অ্যাডমিনিস্ট্রেটর জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানিয়েছেন, এই মিশনগুলো কেবল সাধারণ অভিযান নয়। এগুলোর মাধ্যমে নভোচারীদের নিরাপত্তা, কার্গো পরিবহন এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। চাঁদের মাটিতে বসতি স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় লুনার টেরেইন ভেহিক্যাল (LTV) তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে অ্যাস্ট্রোল্যাব (Astrolab) এবং লুনার আউটপোস্ট (Lunar Outpost)। এছাড়া জেফ বেজসের ব্লু অরিজিন এবং ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসের তৈরি ড্রোনগুলো চাঁদের মাটিতে প্রথমবার অবতরণ করবে।

তিনটি প্রধান মিশনের রূপরেখা:
১. মুন বেস ১ (শরৎ ২০২৬): ব্লু অরিজিনের ‘ব্লু মুন মার্ক ১ এনডিউরেন্স’ ল্যান্ডার ব্যবহার করে চাঁদের শেকেলটন কানেক্টিং রিজ এলাকায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করা হবে, যা ২০২৮ সালের আর্টেমিস মানব অভিযানের ঝুঁকি কমাবে।
২. মুন বেস ২ (২০২৬): অ্যাস্ট্রোবোটিকের ‘গ্রিফিন’ ল্যান্ডারের মাধ্যমে ১১০০ পাউন্ডের বেশি যন্ত্রপাতি এবং অ্যাস্ট্রোল্যাবের ‘ফ্লিপ’ রোভার পাঠানো হবে। এর লক্ষ্য হলো চাঁদে যাতায়াতের উন্নত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৩. মুন বেস ৩ (২০২৬): ইনটুইটিভ মেশিনসের ‘নোভা-সি ট্রিনিটি’ ল্যান্ডার চাঁদের রহস্যময় ‘লুনার সোয়ার্লস’ বা ঘূর্ণি নিয়ে গবেষণা করবে। এতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ইএসএ (ESA) ও কোরিয়ার প্রযুক্তিও থাকবে।

এছাড়া ‘মুনফল’ (MoonFall) মিশনের অধীনে চারটি ড্রোন দক্ষিণ মেরুর তথ্য সংগ্রহের কাজ করবে। নাসার পরবর্তী লক্ষ্য হলো চাঁদের চারপাশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নেভিগেশন সিস্টেমকে পৃথিবীতে ব্যবহৃত জিপিএসের মতো নিখুঁত করে তোলা। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সাল থেকেই মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy