কাটোয়ার নিলুফা ইয়াসমিনের ঐতিহাসিক সাফল্য, বাংলা সাহিত্য ও সাহিত্যে ১০০ পার্সেন্টাইল পেয়ে সর্বভারতীয় ‘প্রথম’

ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে অদম্য জেদ আর কঠোর পরিশ্রমে ইতিহাস গড়লেন পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরের মেয়ে নিলুফা ইয়াসমিন। ২০২৫ সালের ইউজিসি নেট জেআরএফ (জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ) পরীক্ষায় বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ১০০ পার্সেন্টাইল পেয়ে তিনি সর্বভারতীয় স্তরে ‘অল ইন্ডিয়া – ১’ র‍্যাংক অর্জন করেছেন। নিলুফার এই অভাবনীয় সাফল্যে কাটোয়া থেকে শুরু করে গোটা রাজ্য গর্বিত। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁকে এক্স হ্যান্ডেলে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ব্যর্থতার পাঠ থেকে শিখর জয়
সর্বভারতীয় স্তরে ইউজিসি নেট জেআরএফ পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। এই পরীক্ষায় সারা দেশের হাজার হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এবারের পরীক্ষায় মোট ৩৬৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে শীর্ষে স্থান করে নিয়েছেন নিলুফা ইয়াসমিন। বর্তমানে তিনি বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মধ্যযুগের সাহিত্য ও সঙ্গীত নিয়ে পিএইচডি করছেন। শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই তিনি ইউজিসি নেট জেআরএফ-এর প্রস্তুতি শুরু করেন।

নিলুফা বরাবরই মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত। স্কুল ও কলেজ জীবনে বেশিরভাগ সময়ই তিনি প্রথম স্থান অধিকার করতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নিয়ে স্নাতকোত্তর করার সময়ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। তবে, ইউজিসি নেটে এর আগে দু’বার বসেও তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন এবং জুনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপ পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়।

বাংলার প্রতি ভালোবাসা, স্বপ্নের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা
নিলুফার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাংলা নিয়ে পড়াশোনা করার জন্য অনেক সময় তাকে উপহাসেরও শিকার হতে হয়েছে। বাংলা নিয়ে স্নাতকোত্তর পড়ার সময় থেকেই তার চোখে ছিল শিক্ষকতা করার স্বপ্ন। ইউজিসি নেটে প্রথম ও দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় অসফল হওয়ায় খারাপ লাগলেও নিলুফা হাল ছাড়েননি। বাংলা নিয়ে পিএইচডি করার পাশাপাশি তৃতীয়বারের জন্য তিনি পরীক্ষায় বসার প্রস্তুতি নেন।

এবারের পরীক্ষা দেওয়ার পর ফল ভালো হবে এমন একটা আশা তৈরি হয়েছিল পরিবারের মনে। তবে দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করবেন, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। নিলুফার ফল জানার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে এক্স হ্যান্ডেলে শুভেচ্ছা জানিয়ে লিখেছেন, “২০২৫-এর ইউজিসি নেট জুনের ফলাফলে পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার নিলুফা ইয়াসমিনকে বাংলায় ১০০ পার্সেন্টাইল পাওয়ার জন্য শুভেচ্ছা রইল।”

নিলুফা ইয়াসমিনের কথায়, “প্রথম দু’বার পরীক্ষা দিয়ে ব্যর্থ হই। কিন্তু হাল ছাড়িনি। জানতাম পারব। তবে এত ভালো ফল হবে সেটা ভাবিনি। যখন দেখতে পাই দেশের মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করেছি, সত্যিই বিশ্বাস করতে পারিনি।”

নিলুফা ইয়াসমিনের এই সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত জয় নয়, এটি প্রমাণ করে যে, সঠিক অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো বাধাকে অতিক্রম করে সফল হওয়া সম্ভব। তাঁর এই কৃতিত্ব বাংলার শিক্ষাজগতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

Related Posts

© 2025 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy