শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা কি তবে শিকেয় উঠেছে? সুরেন্দ্রনাথ কলেজের রহস্যময় ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুমে মিলল অসামাজিক কাজের চাঞ্চল্যকর প্রমাণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুম খুলতেই সামনে এল মদের বোতল, কন্ডোম, এবং মাদকের সিরিঞ্জ—যা দেখে শিউরে উঠলেন সাধারণ পড়ুয়ারা।
গত ৪ মে ভোটের ফল প্রকাশের পর এভিবিপি সংগঠনের ছাত্ররা ইউনিয়ন রুমে নিজেদের পতাকা লাগিয়েছিল। সেই থেকে ঘরটি বন্ধই ছিল। সোমবার এভিবিপি পড়ুয়ারা তাদের পতাকা দেখতে না পেয়ে ইউনিয়ন রুম খোলার দাবিতে উপাচার্যের দ্বারস্থ হয়। অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ চাবি দিতে অস্বীকার করায় পড়ুয়ারা নিজেরাই তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। আর ঘরের ভেতর পা রাখতেই তাদের চক্ষু চড়কগাছ। যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মদের বোতল, তাসের আড্ডা এবং মাদক সেবনের সরঞ্জাম। পড়ুয়াদের দাবি, শুধু অসামাজিক সামগ্রীই নয়, সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে ছাত্রদের উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ নথি বা এটেন্ডেন্স রেজিস্ট্রারও। এই ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা অবিলম্বে খুঁজে বের করার দাবি তুলেছেন পড়ুয়ারা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করা হলেও, এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সরিত কুমার চৌধুরী এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে শিক্ষাঙ্গনের অন্দরে এই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি মনে করিয়ে দিচ্ছে কিছুদিন আগের সুরেন্দ্রনাথ কলেজের সেই হাড়হিম করা রহস্যের কথা। সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুমের ছাদের ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছিল উইপোকা খাওয়া বান্ডিল বান্ডিল টাকা, মদের বোতল, গর্ভনিরোধক প্যাকেট এবং আগ্নেয়াস্ত্র। সেখানে ছাত্র সংসদের অন্দরে ম্যাসাজ পার্লার চালানোর অভিযোগও উঠেছিল শিবাশিষ ব্যানার্জি ও তার ছেলের বিরুদ্ধে। কলেজ চত্বর কি তবে ধীরে ধীরে অসামাজিক কার্যকলাপের ডেরায় পরিণত হচ্ছে? এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের বিতর্কিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি এখন সাধারণ অভিভাবক এবং সুশীল সমাজের মনে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় পড়াশোনার বদলে কেন এ ধরনের কুকীর্তি চলছে, তা নিয়েই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।





