একদিকে রাজ্যে দলের অন্দরে বিদ্রোহ, অন্যদিকে বাড়ি সংলগ্ন কার্যালয়ে সিআইডি-র তল্লাশি—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক জীবনের চরম সংকটের মুখে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার দিল্লিতে কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে বসলেন তৃণমূলনেত্রী।
কী কারণে সিআইডি-র হানা? মঙ্গলবার দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির লাগোয়া তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হানা দেয় রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। জানা গেছে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত একটি ‘সই-কাণ্ড’ বা জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তেই এই তল্লাশি চালানো হয়েছে। তদন্তকারীরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ এবং ঘটনার দিনের উপস্থিতির বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই একই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও, তিনি হাজিরা দেননি বলে খবর। দলীয় কার্যালয়ে সিআইডি-র এই উপস্থিতিকে রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
দিল্লিতে কেন সোনিয়ার কাছে মমতা? রাজ্যে সরকার হারানোর পর এবং দলের অন্দরে বিদ্রোহের মুখে পড়ে কার্যত কোণঠাসা তৃণমূল সুপ্রিমো। লোকসভার প্রায় ২০ জন সাংসদ আলাদা গোষ্ঠী তৈরির ইঙ্গিত দেওয়ায় এবং বিধানসভায় বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তৃণমূলের অস্তিত্ব এখন সংকটের মুখে। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-এর শক্তিকে ব্যবহার করে নিজের রাজনৈতিক জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন মমতা।
সোমবার ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের বৈঠকের পর সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতার উষ্ণ সাক্ষাৎ ও আলিঙ্গনের ছবি জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কঠিন সময়ে দলীয় ভাঙন রুখতে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের চাপ মোকাবিলায় কংগ্রেসের সাহায্য পাওয়ার লক্ষ্যেই এই ত্বরিত বৈঠক।
রাজনৈতিক গুরুত্ব: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফর ও সোনিয়ার সঙ্গে বৈঠক কেবল সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং এটি একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক কৌশল। রাজ্যে যখন তাঁর নিজের প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলিই তাঁর দলের বিরুদ্ধে সক্রিয় হচ্ছে, তখন জাতীয় স্তরে বিরোধী নেত্রীদের পাশে পেয়ে তিনি নিজেকে সুরক্ষিত করার চেষ্টা করছেন।
দলীয় অন্তর্কলহ এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপের মাঝে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী দিনে কীভাবে এই রাজনৈতিক সংকট কাটান, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





