দিল্লির পর এবার বাংলার বিধানসভাতেও কি নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে? লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দল ভাঙার পর এখন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চর্চা। সোমবার বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমের দীর্ঘ বৈঠকের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
সাংসদদের এনডিএ-তে যোগ ও বিধায়কদের অবস্থান সোমবার লোকসভার ২৮ জন তৃণমূল সাংসদের মধ্যে ২০ জনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করে বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। বিদ্রোহীদের দাবি, তাঁরা এবার কেন্দ্রে বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-তে সামিল হতে চলেছেন। বিদ্রোহীদের এই সাফল্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, রাজ্যের বিদ্রোহী বিধায়কদের পরবর্তী চাল কী?
এই বিষয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গে আমার দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ইচ্ছার ঐক্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এবার সরাসরি চিঠি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং আমাদের সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেশি।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, বিদ্রোহী সাংসদদের সাথে তিনি যোগাযোগ করবেন এবং তাঁরা যদি এনডিএ ব্লককে সমর্থন করতে চান, তবে তা তাঁরা করতেই পারেন।
তৃণমূলকে নিশানা ঋতব্রতর এদিন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি আক্রমণ করেন ঋতব্রত। তিনি দাবি করেন, দলের অন্দরে নেতাদের সাথে ‘জানোয়ারের মতো’ ব্যবহার করা হতো। প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়ের দলত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “পদ থাকলে তবেই তো ত্যাগ করার সুযোগ থাকে।”
ঋতব্রতর মতে, তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী খোদ দলনেত্রী এবং তাঁর ‘ফেউ ক্যুইজ মাস্টার’। হকার উচ্ছেদ থেকে শুরু করে একাধিক জনবিরোধী সিদ্ধান্তের জন্য তিনি তৃণমূলের কঠোর সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন, মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে কিন্তু নেতৃত্ব চার্টার্ড ফ্লাইটে ভ্রমণের ব্যস্ততায় মগ্ন।
ভবিষ্যৎ কী? বিধানসভার অন্দরে তৃণমূলের পরিষদীয় দল কার্যত এখন অস্থির। একদিকে লোকসভায় বড়সড় ভাঙন, অন্যদিকে বিধানসভায় ফিরহাদ হাকিম ও অন্যান্য বিধায়কদের সঙ্গে বিরোধীদের এই বিশেষ বৈঠক—সব মিলিয়ে রাজ্যের শাসকদলের অস্বস্তি যে বহুগুণ বেড়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য। লোকসভার পর বিধানসভাতেও কি বড় কোনো প্রশাসনিক রদবদল বা ভাঙনের অপেক্ষা রয়েছে? এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





