এক ঐতিহাসিক রায়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal- ICT) শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে। গত বছর ছাত্র আন্দোলন দমাতে প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর আজ, ১৭ নভেম্বর এই সাজা ঘোষণা করা হয়। প্রায় এক মাস ধরে সওয়াল-জবাবের পর এই রায়দান হয়।
এই রায়দান ঘিরে কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত বাংলাদেশ। চলছে প্রবল বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ এবং বোমাবাজি।
হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
সোমবার বিচারপতি মোহম্মদ গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই মামলার রায় সরাসরি সম্প্রচার করে। ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায়টি ছয়টি ভাগে পাঠ করা হয়। রায়ে ট্রাইব্যুনাল ঘোষণা করে যে শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।
শেখ হাসিনা: দুটি অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল: একটি অভিযোগে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
শেখ হাসিনার আমলের আইজি চৌধুরী আবদুল্লা আল মামুন: তাঁকে ৫ বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এছাড়াও, শেখ হাসিনা ও প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কমলের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
যে পাঁচটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন হাসিনা
মূলত পাঁচটি গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ আদালতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে শুনানি চলছিল:
১. বিক্ষোভ চলাকালীন আন্দোলনকারীদের হত্যার অভিযোগ। ২. হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের উপর নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ। ৩. আন্দোলনকারী ছাত্রদের খুনের অভিযোগ। ৪. হিংসায় প্ররোচনামূলক বয়ান দেওয়ার অভিযোগ। ৫. মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠিত করার অভিযোগ।