প্রাথমিক চিকিৎসায় আমরা যে ৩টি ভুল করে থাকি

দূর্ঘটনাজনিত কোন কারণে আরো গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ততা ও সঙ্কটাপন্ন হবার হাত থেকে রোগীকে বাঁচাতে প্রাথমিক চিকিৎসা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করে থাকে। এর ফলে ভূক্তভোগী ব্যক্তিকে অস্থায়ীভিত্তিতে নিরাপত্তা প্রদান করে উন্নত চিকিৎসার জন্যে হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ফলশ্রুতিতে ডাক্তার বা নার্স প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহযোগিতা করে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন কিংবা অন্য কোন বিশেষায়িত হাসপাতালে দ্রুত প্রেরণের সঠিক নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকেন। তবে অনেক সময় এই প্রাথমিক চিকিৎসায়ও বিভিন্ন ভুল হয়ে থাকে। আসুন জেনে নেই এসব ভুলের কথা।
১.নাকের রক্তপাত ঠেকাতে মাথা পেছনে হেলানো
নাক দিয়ে রক্ত পড়লে সাধারণত এটা নাক চেপে রক্ত বন্ধ করা হয়। আর সেই সময় মাথা পিছনে হেলানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এতে আসলে রক্ত গলা বেয়ে নেমে পাকস্থলীতে পৌঁছায়,যা প্রদাহের সৃষ্টি করে।
তাই অন্য কোনো পক্রিয়ায় না গিয়ে গলার সামনে নিয়ে নাকের রক্ত বের হতে দিন। কিছু রক্ত ঝরে পড়লে ৫-১০ মিনিট নাক চেপে ধরে বসে থাকুন।
২.পোড়ায় মাখন-পেস্ট দেওয়া
কোনো জায়গায় পুড়ে গেলেই দৌড়ে গিয়ে মাখন বা দাঁত মাজার পেস্ট বা মাখন লাগিয়ে নেন। তবে এগুলো ক্ষতস্থান পরে মারাত্মক করতে পারে। এগুলো মূলত পোড়া অংশের তাপমাত্রা দ্রুত কমাতে বাধা প্রদান করে। তাই পুড়ে গেলে প্রথমেই ক্ষতস্থান জলের ধারায় রেখে একে ঠান্ডা করুন। তারপর একে উন্মুক্ত অবস্থায় রেখে শুস্ক করুন। কোনো ধরণের ব্যান্ডেজ বা মলম লাগালে তা আরো ক্ষতি হতে পারে।
৩.উন্মুক্ত ক্ষতে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড দেওয়া
করতো হাটু ছুলে গেলেই বাবা মা দৌড়ে হাইড্রোজেন পার অক্সাইড এনে ক্ষতে লাগিয়ে নিন। তারপর এর ছোট সাদা ধবধবে বুদবুদ দেখলেই মনে হয়,সব জীবাণু মরে যাচ্ছে। কিন্তু এর উল্টোটা হচ্ছে। দেহের টিস্যু এভাবেই নষ্ট করে তরলটি। এই রাসায়নিক পদার্থটি কোষের দেয়াল খেয়ে ফেলে। ফলে ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে দ্রুত কোষ ও মরে যায়। তাই প্রথম অবস্থায় জলের ঝাপটায় ক্ষতস্থানের ময়লা ধুয়ে দিন।