মোবাইল ফোন কেনার আগে যা যা দেখে নেবেন

বর্তমান সমাজে মোবাইল ফোন হলো যোগাযোগের অন্যতম প্রয়োজনীয় বস্তু। এখন মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে মোবাইল। কথা বলা ছাড়াও বিভিন্ন ফিচার এঁকে গড়ে তুলেছে আরো বেশি স্মার্ট। তাই এই স্মার্ট ফোন কিনতে গেলে মাথায় রাখুন কয়েকটি প্রয়োজনীয় বিষয় –

১)সবার প্রথমে ভেবেনিন ফোনটি কেন কিনবেন ? যদি আপনি শুধু কথা বলার জন্য কিনতে চান তাহলে কিনে নিতে পারেন ফিচার ফোন। আর মোবাইলে যদি বিভিন্ন কাজ ও বিনোদনের প্রয়োজন হয় তাহলে কিনে নিতে পারেন স্মার্টফোন।

২)ফোন কেনার আগে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে কোন কোম্পানির ফোন কিনবো ?আর এই প্রশ্নের উত্তর হবে যে কোম্পানির উপর সবার ও আপনার আস্থা রয়েছে সেই কোম্পানির ফোন কিনুন। যে কোম্পানির বিক্রয়ের পরেও পরিষেবা ভালো সেই কোম্পানির ফোন কিনতে পারেন।

৩)স্মার্টফোনের ব্যবহারের উপর নির্ভর করে ফোনের ডিসপ্লে আকার ও রেজুলেশন। যারা মোবাইলে ভিডিও স্ট্রিমিং অর্থাৎ মুভি ও ভিডিও দেখে কাজে লাগাতে চান তারা কিনতে পারেন সাড়ে ৫ থেকে ৬ ইঞ্চির ডিসপ্লে। যা ফুল এইচডি বা কিউ এইচডি ডিসপ্লে থাকলে আরো ভালো হবে। এর থেকে বড় মাপের ফোন নিলে আপনার ক্যারি করতে অসুবিধা হতে পারে।

৪. যাঁরা স্মার্টফোনে ছবি বা ভিডিও সম্পাদনা, ডকুমেন্ট সম্পাদনা, ভারী গেম খেলা, ভিডিও স্ট্রিমিং ও স্ক্রিনে একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাঁরা কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৬৫২ বা স্ন্যাপড্রাগন ৮২০/৮২১ প্রসেসরের ফোন নিতে পারেন। এতে মাল্টিটাস্কিং-সুবিধা পাওয়া যায়। আর যাঁরা স্মার্টফোন হালকা কাজে ব্যবহার করেন, তাঁরা মিডিয়াটিক প্রসেসর ব্যবহার করতে পারেন।

৫)স্মার্টফোনে ক্যামেরার মেগাপিক্সেল বেশি থাকা মানেই যে সে ফোনের ক্যামেরা ভালো তাই নয় কিন্তু বরং ক্যামেরার অ্যাপারচার, আইএসও, পিক্সেলের আকার ও অটোফোকাসের মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।বেশি পিক্সেল থাকার অর্থ হলো ছবির আকার বড় হবে ও ছোট স্ক্রিনে আরো শার্প হবে। আর ক্যামেরার অপেক্ষার ভালো থাকা মানে ছবি উঠবে সুন্দর ও নিখুঁত।

৬)স্মার্ট ফোন আপনার কতটা কাজে লাগে তার উপর নির্ভর করে আপনার ব্যাটারির ক্ষমতা। যারা ফোনে সবসময় কিছু না কিছু করতে থাকেন তারা স্মার্ট ফোনের ক্ষেত্রে কমপক্ষে সাড়ে তিন হাজার মিলি এম্পিয়ার অথবা তার বেশি এম্পিয়ারের ব্যাটারি দেখে নিতে পারেন। যারা কম ফোন ব্যবহার করেন তাদের জন্য তিন হাজার মিলিম্পিয়ারের ব্যাটারি যথেষ্ট।

৭)স্মার্টফোন কেনার আগে অপারেটিং সিস্টেমের সংস্করণ ও ইউজার ইন্টারফেসের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু ইউজার ইন্টাফেস ব্যবহার করে বারবার কাজ করা হয়, তাই এটি যত সহজ ও সাধারণ হয় ততই ভালো।

৮)স্মার্ট ফোনের বেশিরভাগ স্টোরেজ দখল করে থাকে ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও প্রি-ইনস্টল করা অ্যাপগুলো।
এছাড়া যেসব ফোনে বলা হয় ১৬ জিবি ৬৪ জিবি জায়গার কথা আসলে তাতে ওই পরিমান জায়গা আসলে থাকেনা। যারা স্মার্টফোন কম ব্যবহার করেন তারা ৩১ জিবি ও যারা বেশি ব্যবহার করেন তারা ৬৪ জিবি অথবা ১২৮ জিবি স্টোরেজ আছে এমন স্মার্টফোন ব্যবহার করতে পারেন। আর ১৬ জিবি স্টোরেজ থাকা ফোন নিলে সেই ফোনে মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করা যাবে কিনা সেই বিষয়টি দেখে নেবেন।