হাসি মুখেই করুন রক্তদান, জেনেনিন রক্তদান সম্পর্কিত কিছু ভুল ধারণা?

আমাদের দেশে এক সময় রক্ত না পাওয়ার কারণে মানুষের মৃত্যু হতো। কিন্তু বর্তমানে এ ধারণা থেকে মানুষ অনেকটা বের হতে পেরেছে। তারপরও রক্তদান নিয়ে মানুষের মাঝে কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়ে গেছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন চট্টগ্রাম পার্কভিউ হাসপাতালের রক্তরোগ ও রক্ত ক্যান্সার বিভাগের কনসাল্ট ডা. জামাল উদ্দিন তানিন। জাগো নিউজের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কথা বলেছেন আনিসুল ইসলাম নাঈম

মূলত কারা রক্ত দিতে পারবেন?
১৮-৫০ বছরের মধ্যে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ যেকোনো মানুষ রক্তদান করতে পারবেন। তাছাড়া রক্তদাতার এমন কোনো রোগ যেন না থাকে, যাতে রক্তদান করলে ক্ষতি হয় এবং রক্তগ্রহীতারও রক্ত গ্রহণের ফলে ক্ষতি না হয়। রক্তদানের ক্ষেত্রে পুরুষের ওজন ন্যূনতম ৫৫ কেজির বেশি এবং নারীদের ৫০ কেজির বেশি ধরা হয়।

রক্তদানের আগে ও পরে করণীয় কী?
রক্তদানের আগে রক্তদাতা পরীক্ষা করে নেবেন, তার বড় কোনো সমস্যা আছে কি-না? যেমন- হার্ট, উচ্চরক্তচাপ, কিডনিতে সমস্যা ইত্যাদি। রক্তদানের আগে স্যালাইন জল খেয়ে নেবেন। জ্বর মেপে নেবেন ও পালস ঠিক আছে কি-না। রক্তদাতা রক্ত দেওয়ার পর ৫-৬ মিনিট শুয়ে বিশ্রাম নেবেন। তারপর উঠে স্যালাইন বা ডাবের জল খাবেন। রক্ত দেওয়ার ফলে শরীরের সুচের দাগ কিছুদিনের মধ্যেই চলে যায়।

রক্তশূন্যতা হলেই কি রক্ত নেওয়া উচিত?
রক্তশূন্যতার কারণ নির্ণয় না করে রক্ত দেওয়া একটা অপরাধ। এতে করে পরবর্তীতে রোগীর রক্তশূন্যতার কারণ খুঁজে বের করতে খুবই অসুবিধা হয়। তাছাড়া রক্তদানের কারণে মূলত যে রোগের ফলে রক্তশূন্যতা হয়, সে রোগ বেড়ে যায়। পরবর্তীতে সেই রোগের চিকিৎসা করানো খুব কঠিন ও অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় ক্যান্সারের মতো রোগ ছড়িয়ে যায়। তাছাড়া রক্তশূন্যতার কারণ নির্ণয় করে ঠিকভাবে ওষুধ খেলে রক্তশূন্যতা ভালো হয়ে যায়। তাই অবশ্যই রক্তশূন্যতার ক্ষেত্রে কারণ নির্ণয় করা জরুরি।

উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস থাকলে রক্ত দেওয়া যাবে?
উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস স্বাভাবিক মাত্রায় থাকে তবে দেওয়া যাবে। এ রোগের কারণে শরীরে অন্য কোনো অঙ্গের সমস্যা যেমন- উচ্চরক্তচাপ থেকে হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস থেকে কিডনির সমস্যা হলে রক্ত দেওয়া যাবে না।

রক্তদানের ফলে শরীরে রক্তের কোনো ঘাটতি হয় কি?
একজন ব্যক্তি এক ব্যাগ রক্ত দিতে পারেন। সেই রক্তের ঘাটতি শরীরে খুব দ্রুত পূরণ হয়ে যাবে এবং এতে ক্ষতি নেই। প্রত্যেক ব্যক্তির রক্ত চার মাস পর আর কাজে লাগে না। তাই সুস্থ ব্যক্তি একব্যাগ রক্ত দিলে ঘাটতি হবার সুযোগ নেই।

গ্রুপিং এবং ক্রস ম্যাচিং করার পর রক্ত নেওয়ার কারণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে?
রক্ত নেওয়ার আগে সাধারণত রক্তের গ্রুপ (এ,বি,ও) এবং আরএইচ টাইপিং দেখা হয়। কিন্তু এর বাইরেও রক্তে গ্রুপের মধ্যে অনেক গ্রুপ ও সাব-গ্রুপ থাকে। ফলে গ্রুপিং ও ক্রস ম্যাচিং করার পরও সমস্যা হয়। তাছাড়া কিছু রোগের কারণেও অনেক সময় রক্ত নিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

রক্ত পুরোটাই দেওয়া ভালো, না-কি বিশেষ বিশেষ অংশ?
অনেক সময় রক্ত নেওয়ার ফলে শরীরে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এরকম হয়ে থাকে শরীরে পুরো রক্ত নেওয়ার ফলে। রক্তশূন্যতার কারণ খুঁজে বের করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লাল, সাদা কোনো রক্তই লাগে না। তারপরও রক্ত লাগলে যতটুকু প্রয়োজন, তা দিতে হবে। পুরোটা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।