প্রতিমাসে অনিয়মিত ঋতুস্রাব ও অসহ্য যন্ত্রণা, জেনেনিন যন্ত্রনা মুক্তির সহজ উপায়

নারীদের একটি নির্দিষ্ট বয়সের পর থেকে প্রতি মাসেই ঋতুস্রাব হয়ে থাকে। এটি খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে অনেক নারীরাই অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যায় ভুগে থাকেন। অনিয়মিত ঋতুস্রাবের কারণে নারীদের নানান শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সন্তান ধারণে সমস্যা হওয়া।
পিরিয়ড চলাকালীন বা এর আগে-পরে অসংখ্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে নারীদের। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোমর ও পেট ব্যথা হয়ে থাকে। আর এই ব্যথা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আবার কারো ক্ষেত্রে স্তনে ব্যথা, কারো বমি হয়ে থাকে। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে, তলপেট আর কোমরে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়। আবার অনেকে খাবার খেতে পারেন না। এসব তো স্বাভাবিক ঘটনা। প্রকৃত অর্থে পিরিয়ড চলাকালীন বা আগে-পরে নারীদের শরীরে হরমোনের বেশ কিছু পরিবর্তন হয়ে থাকে।

অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা সমাধানে খাবারদাবারের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করতে হবে। নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

অনিয়মিত ঋতুস্রাব ও অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তির সহজ কিছু ঘরোয়া উপায়ও রয়েছে। চলুন সেগুলো জেনে নেয়া যাক-

হলুদ

এটি অ্যান্টিসেপ্টিক বা পেটের সমস্যা ছাড়াও পিরিয়ডের ফ্লো স্বাভাবিক করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য হলুদ সহায়তা করে। এতে পিরিয়ডের যন্ত্রণা কম হয়। প্রতিদিন গরম দুধে আধা চামচ হলুদ এবং সামান্য মধু বা গুড় মিশিয়ে খাওয়া শুরু করুন। উপকার পাবেন।

আদা

হলুদের মতোই অনেক উপকারী এই আদা। এক চা চামচ আদা ৫/৭ মিনিট সিদ্ধ করে সামান্য চিনি মিশিয়ে দুপুরে খাওয়ার পর দিনে কমপক্ষে একবার পান করুন। নিয়মিত এটি খাওয়ার ফলে পিরিয়ডের চক্র স্বাভাবিক হয়ে থাকে।

জিরা

প্রাকৃতিক এই উপাদানের গুণের তুলনা হয় না। ভেষজ এই উপাদানের পানি খাওয়ার ফলে পিরিয়ডের অনিয়মিত প্রবাহের সমস্যা দূর হয়। এক কাপ পানিতে দুই চামচ জিরা সারারাত ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়।

দারুচিনি

অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা রোধে দারুচিনির বিকল্প নেই। গরম দুধে দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে নিয়মিত খাওয়ার ফলে পিরিয়ডের প্রবাহ স্বাভাবিক থাকার পাশাপাশি ব্যথা কমাতে বিশেষ সহায়তা করে।

পেঁপে

পিরিয়ডের প্রবাহ ঠিকঠাক রাখার জন্য পেঁপের কোনো তুলনা হয় না। হোক তা কাঁচা কিংবা পাকা। পেঁপে খাওয়ার ফলে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। সেই সঙ্গে অবাঞ্ছিত রক্ত এবং ক্লড বের করে দিয়ে তলপেট ও কোমরকে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবে। গর্ভাশয়ের পেশী সচল করে রক্তপ্রবাহকে স্বাভাবিক করে কাঁচা পেঁপে। ঋতুস্রাবের দিকে এগিয়ে থাকা মহিলার নিয়মিত কাঁচা পেঁপের রস খাওয়া উচিত। এতে পিরিয়ডের সময় সুবিধা পাবেন। পাকা পেঁপেও পিরিয়ডের ব্যথা দূর করতে সহায়তা করে। তবে মা হওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করলে পাকা পেঁপে খাওয়া বন্ধ করা উচিত। এতে গর্ভপাত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে।

সূত্র : ইন্ডিয়া টাইমস।