হার্ট অ্যাটাক হতে পারে যা ভেঙ্গে গেলে!

ভালবাসার সম্পর্কে ছেদ পরলে হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেতে পারে। সম্প্রতি এক গবেষনায় এ তথ্য উঠে এসেছে। তাই এ সময়ে সাবধান থাকা খুই জরুরি।

ইউনিভার্সিটি অব অবের্ডিনের গবেষকরা এক পরীক্ষা করে এ তথ্য দেন। তারা বলেন সম্পর্ক শেষ হওয়ার সময় মানসিক চাপ বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। এতে করে ব্রোকেন হার্ট সিনড্রমে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

কী এই ব্রকেন হার্ট সিনড্রোম? গবেষকরা জানাচ্ছেন মন ভাঙলে মানসিক চাপ হঠাৎ করে মারাত্মক বেড়ে যায়। যে কারণে হার্টের উপর এমন চাপ পরে যে হৃদপিন্ডের পক্ষে স্বাভাবিক ছন্দে কাজ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হার্ট রেট বৃদ্ধি পেতে শুরু করে যা হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়। তাই মন ভাঙার পর হার্টের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা জরুরি।

১. মন খুলে হাসতে হবে

একাধিক গবেষণা বলছে সম্পর্ক ভাঙার পর হার্টকে সুস্থ রাখতে হাসি খুবই উপকারি। কারণ হাসার সময় আমাদের মস্তিষ্কে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এতে করে হার্টে রক্ত প্রবাহের উন্নতি ঘটে এবং হৃদপিন্ড চাঙ্গা হয়। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি একটি গবেষণায় দেখা গেছে মাত্র ১৫ মিনিট হাসলে আমাদের শরীরের ভেতরে এমন কিছু পরিবর্তন হয় যা হার্ট ছাড়াও সার্বিকভাবে দেহের সচলতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে থাকে।

২. নিয়মিত শরীরচর্চা

শরীর এবং মনকে চাঙ্গা রাখতে এক্সারসাইজ বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। কারণ হাসার সময় যেমন উপকারি হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, ঠিক তেমনি শরীরচর্চা করার সময়ও একই ঘটনা ঘটে। ফলে মন তো চনমনে হয়ে ওঠে এবং ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের হয়ে যায়। প্রসঙ্গত, বেশ কিছু স্টাডিতে দেখা গেছে নিয়মিত ৩০ মিনিট এক্সারসাইজ করলে ব্রেন এবং হার্টের কর্মক্ষমতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়।

৩.পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে

বিশেষ কিছু খাবার রয়েছে যা হার্টকে ভাল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত যদি মাছ, বাদাম, জাম, বিনস, পালং শাক, নানা ধরনের ফল, টমাটো এবং ব্রকলি খাওয়া যায়, তাহলে হার্টকে নিয়ে আর কোন চিন্তা করতে হবে না। এইসব পুষ্টিকর খাবারে নানাবিধ উপকারি উপাদান , যেমন- ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, বিটা-ক্যারোটিন, পটাশিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি সহ আরও অনেক উপকারি পদার্থ রয়েছে। এসব উপকারি উপাদান হার্টকে সুস্থ-সবল রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪. ভ্রমণ করতে পারেন

মন ভাল রাখতে ভ্রমণের কোন বিকল্প নেই। কারণ নতুন নতুন জায়গা ঘুরলে একদিকে যেমন মন ভাল থাকে ঠিক তেমনি জীবনের ফোকাসটা অন্যদিকে ঘুরে যাওয়ার কারণে দুঃখ ভুলতে সময় লাগে না।

৫. পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান

মন খারাপ থাকলে বা বিষন্নতা আসলে যতটা সম্ভব পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর চেষ্টা করবেন। এতে আপনার স্ট্রেস এবং মন খারাপের বিষয়টি দূর হবে। আসলে পছন্দের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় আমাদের মস্তিষ্কের ভেতরে এন্ডোরফিন নামক এক ধরনের হরমোনের ক্ষরণ বহু গুণে বৃদ্ধি পায়। আর এটি মন ভাল করে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৬. আবারও ভালবাসতে শুরু করুন

একটা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া মানে জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয় । তাই দুঃখকে ভোলানোর চেষ্টা করুন। নতুনভাবে বাঁচার চেষ্টা করুন। নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে মেলামেশা শুরু করুন। হয়তো এর চেয়ে ভালো মানুষ আপনার জীবনে আসতে পারে।