পিৎজা খেলে ওজন কমবে!কিভাবে সম্ভব

আপনি কী পিৎজা খেতে ভালবাসেন? কিন্তু মুটিয়ে যাওয়ার ভয়ে খাচ্ছেন না? তাহলে আর চিন্তা নেই। গবেষকরা বলছে, পিৎজা খেলে আপনার ওজন বাড়বে তো নাই, বরং কমবে। কী অবাক হচ্ছেন? অবাক হলেও ঘটনা কিন্তু সত্যি।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, পিৎজা খেলে ওজন বাড়বে না। শুধু তাই নয়, আইসক্রীম বা পাস্তা খেলেও ওজন বাড়বে না। বরং তা ওজন হ্রাসে সাহায্য করবে।

পর্তুগালে চালানো এক সমীক্ষা থেকে গবেষকেরা দেখেন যে, সপ্তাহে অন্তত একবার পিৎজা বা পাস্তার মত খাবার খেলে আপনার ওজন হ্রাসে তা সহায়ক হবে। গবেষণায় এক দল লোককে দুইটি দলে ভাগ করা হয়। একদল লোককে ওজন কমানোর জন্য নিয়ন্ত্রিত খাবার দেওয়া হয়। অন্য দলকে নিয়ন্ত্রিত খাবারের সাথে পিৎজা এবং পাস্তা দেওয়া হয়। গবেষণায় দেখা যায়, যাদেরকে নিয়ন্ত্রিত খাবারের সাথে পিজা বা পাস্তার মত খাবার দেওয়া হয় তারা বাকিদের থেকে নিয়ন্ত্রিত খাবারের প্রতি বেশি উৎসাহী এবং আগ্রহী। অন্যদিকে আরেক দল নিয়ন্ত্রিত খাবারের ওপর থেকে দ্রুত আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।

গবেষকরা বলছেন, ফাস্টফুড বা এ ধরণের খাবার সপ্তাহে অন্তত একদিন খেলে তা ঐ মানুষটিকে নিয়ন্ত্রিত খাবারের প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলে। উদাহরণ স্বরপ এক ব্যক্তি যদি একদিন ডোনাট খায় তাহলে তার সামনে পরের দিন আবার একটি ডোনাট আনা হলে তিনি তার প্রতি খুব একটা আগ্রহী প্রকাশ করবেন না। উপরন্তু সে গত দিন ডোনাট খাওয়ার জন্য নিয়ন্ত্রিত খাবারের জন্য আরও বেশি উৎসাহী হবে। অন্যদিকে যে ব্যক্তি ডোনাট খায়নি তার সামনে যখনই ডোনাট আনা হবে সে তার প্রতি আগ্রহী থাকবে। এই আগ্রহের দরুণ তিনি যখন ডোনাট খাবেন তখন তা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি খাবেন। যারা কারণে তার নিয়ন্ত্রিত খাবারের কাঙ্খিত ফলাফলা পাওয়া যাবে না।

মাঝে মাঝে পিৎজার মত খাবার খাওয়া মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো বলে দাবি করেন গবেষকেরা। তারা বলেন, নিয়মিত এবং নিয়ন্ত্রিত হারে এমন খাবার আপনার শরীরের সেই হরমন নিঃসরণে সাহায্য করে যা আপনাকে ভেতর থেকে আনন্দ অনুভব করাবে। অন্যদিকে, প্রতিদিন শুকনো খাবার বা নিয়ন্ত্রিত খাদ্য তালিকায় একই খাবার থাকা একজন ব্যক্তিকে ওজন হ্রাসে অনাগ্রহী করে তুলবে। উপরন্তু হতাশা এবং অনীহা দেশে কর্টিসল হরমোন তৈরি করবে যা ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

তাই এখন থেকে আর আক্ষেপ না করে নিয়ন্ত্রিত হারে খেতে থাকুন পিৎজা, পাস্তা এবং আইসক্রীম।