রাজশাহীর জনপ্রিয় খাবার এই রুটিই

রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ তথা উত্তর অঞ্চলের জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে একটি হলো কলাই রুটি। রাজশাহীতে যাবেন আর কলাই রুটি খাবনে না তা হতে পারে না। দেশের কিংবা বিদেশের বিখ্যাত ব্যক্তিরা রাজশাহী গিয়ে কলাই রুটির স্বাদ নেন। কলাই রুটি তৈরি করে এ এলাকায় অনেকে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এ কলাই রুটি তৈরি করে চলে সংসারের যাবতীয় খরচ। এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো কলাই রুটি। সকালের নাশতা হিসেবে এটি বেশ জনপ্রিয়। কারণ এটি তৈরি সহজ, এর উপাদানও হাতের কাছেই। বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠানে বাঙালির স্বকীয়তা এসব খাবারেই নিহিত। বিশ্বায়নের বর্তমান যুগে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফুড চেইন ও ফাস্টফুডের সঙ্গে বাঙালির দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার এখনো সগর্বে টিকে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে এই কলাই রুটি। বিশেষ উৎসব বা পার্বণের অংশ হিসেবে নয়, বরং এই কলাই রুটি প্রতিদিনের খাবারে ভাত-ডালের মতোই খাওয়া হয়ে থাকে। লাল টুকটুকে শুকনা মরিচভর্তার সঙ্গে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু এই রুটি খুব সহজেই ঘরে তৈরি করা হয়।

কয়েকদিন আগেই সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসেছিলেন রাজশাহীতে। তিনি এসে পদ্মার পাড়ে সকালের ব্রেকফাস্ট হিসেবে কলাই রুটি খান। শুধু এখানেই শেষ নয় সেই কালাই রুটি খাওয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও পোস্ট করেন। এ ছবি পরে ভাইরাল হয়ে যায়।

তিনি কলাই রুটি খেয়ে বলেছিলেন, রাজশাহী আসলাম আর কলাই রুটি খাব না তা হতে পারে না। আবার রাজশাহী এলে কলাই রুটি খাব।

কলাই রুটি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন মো. আবদুল হান্নান। তিনি জানান, কলাই রুটি বিক্রি করে ওই ব্যক্তি জীবিকা নির্বাহ করেন এবং প্রায় ১০ জনের একটি পরিবারের ভরণ পোষণও করছেন। এই রুটি তৈরি করে তিনি তার ছেলেমেয়েদের পড়াশুনাও করাচ্ছেন। তার দুই ছেলে চাকরি করছে। ৩৬ বছর ধরে তিনি এ পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। যখন এই রুটি বিক্রি হতো দুই টাকায় আর এখন এ রুটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। তিনি তার মায়ের কাছ থেকে এ রুটি তৈরি করে শিখেছেন।

কলায়/কলাই রুটি তৈরির রেসিপি বা উপাদান-

১। মাষকলাই/কলাই

২। আতপ চাল/চিকন ধানের চাল

প্রথমে জাতাতে মাষকলাই ও আতপ চালকে কে পিষে আটা বানিয়ে নিতে হবে। তবে এই কাজ মেশিনেও করা যায়। তবে ভালো কলাই এর রুটি খেতে চাইলে মেশিনে ভাঙা নয়, জাতাতে পিষা কলাই আর আতপ চালের আটা ভাল। যদি মেশিনে ভাঙতে হয় তবে, আটাটা একটু মোটা করে ভাঙতে হবে। বেশি চিকন হলে রুটি খেতে মজা লাগবে না।

তৈরি পদ্ধতি:
প্রয়োজনীয় পরিমাণ আটার সঙ্গে লবণ-জল মিশিয়ে খামির বানাতে হবে। তৈরি খামির থেকে টেনিস বলে সমপরিমাণ নিয়ে প্রথমে একটা গোলা বানাতে হবে। পরে গোলাটি হাতে চ্যাপ্টা করে রুটির মতো বানাতে হবে। রুটি বড় করার সুবিধার্থে হাত মাঝে মাঝে জলে ভিজিয়ে নিতে হবে। এতে সুবিধা হয় যে আটা যেন হাতের তালুতে আটকে না যায়। চাকতির মত আটাকে আস্তে আস্তে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এক তালু থেকে অন্য তালুতে বারবার নিয়ে আটাকে যতটুকু সম্ভব পাতলা করে নিতে হবে। দুই হাতের তালুতে নিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে চ্যাপটা করে রুটি বানাতে হবে। তারপর সেটা পরোটার মতো ভেজে নিতে হবে।

খাওয়ার অনুষঙ্গ:

এই বিশেষ রুটি খেতে হবে বিশেষ কিছু ভাজা সহযোগে। যেমন পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা, আগুনে পোড়ানো বেগুন-ভাজা দিয়েই খেতে বেশি ভালো লাগে।