‘লিঙ্গায়তরা শিবভক্ত, তাঁদের আল্লাহু আকবর বলাতে চান!’ মাওলানা সাজিদের মন্তব্যে দেশজুড়ে বিতর্ক

অল ইন্ডিয়া ইমাম অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাওলানা সাজিদ রশিদির একটি বিতর্কিত ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে তিনি দাবি করেছেন, দলিত, শিখ, বৌদ্ধ এবং লিঙ্গায়ত সম্প্রদায়কে হিন্দু ধর্মীয় পরিচয় থেকে বিচ্ছিন্ন করে মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে একীভূত করার প্রক্রিয়া চলছে। এই মন্তব্যের পরই সারা দেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় ঐক্য নষ্ট করার এক সুগভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে এর পেছনে।

সবচেয়ে বেশি বিতর্ক দানা বেঁধেছে লিঙ্গায়ত সম্প্রদায়কে নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে। কর্ণাটকসহ দক্ষিণ ভারতে লিঙ্গায়তরা শিবের পরম ভক্ত হিসেবে পরিচিত এবং তাঁরা দীর্ঘকাল ধরে সনাতন ঐতিহ্যের ধারক। শিবভক্তদের ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন সমালোচকরা। লিঙ্গায়ত নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা হিন্দু সনাতন ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উস্কানিতে তাঁরা বিভ্রান্ত হবেন না।

কেবল লিঙ্গায়তরাই নয়, শিখ, বৌদ্ধ এবং দলিত সংগঠনগুলোও মাওলানা রশিদির এই বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে। শিখ সম্প্রদায়ের নেতারা এই মন্তব্যকে অত্যন্ত অসম্মানজনক ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের বিভেদমূলক কথা সমাজে অশান্তি ছড়ানোর জন্য সচেতনভাবেই বলা হয়েছে। দলিত এবং বৌদ্ধ সংগঠনগুলোর দাবি, কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে টানাটানি করার অধিকার কারোর নেই। এই মন্তব্য দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিপন্থী এবং জাতীয় ঐক্যের পক্ষে বড় এক চ্যালেঞ্জ।

ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা সাজিদ রশিদির এই উস্কানিমূলক বক্তব্যের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় বিভেদ তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা রুখতে সরকার কঠোর অবস্থান নেবে। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজেপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা দাবি করেছেন, হিন্দু সমাজকে জাতি ও উপজাতির ভিত্তিতে দুর্বল করার দীর্ঘদিনের একটি এজেন্ডা রয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এই ধরনের ষড়যন্ত্র স্পষ্ট বুঝতে পারছে। লিঙ্গায়ত বা শিখদের মতো শক্তিশালী সম্প্রদায়কে মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা বাস্তবে যে অসম্ভব, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রবল ক্ষোভ দানা বাঁধছে। সামাজিক মাধ্যমে এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করছে এবং মানুষ এই ধরনের উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি তুলছে। একজন ধর্মীয় নেতার এ ধরনের মন্তব্য দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে যে ঝুঁকি তৈরি করেছে, তা নিয়ে এখন গোটা দেশে ব্যাপক চর্চা চলছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy