দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন মুরারইয়ের হাজার হাজার নিত্যযাত্রী। স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উন্নত করার লক্ষ্যে বহুল প্রতীক্ষিত মুরারই লিমিটেড হাইট সাবওয়ে (এলএইচএস নং ৩২) আনুষ্ঠানিকভাবে সড়ক যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। পূর্ব রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্করের নেতৃত্ব এবং দূরদর্শী পরিকল্পনায় সম্পন্ন এই প্রকল্পটি আধুনিক পরিকাঠামো গঠনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।
প্রকল্পটির সফল রূপায়ণে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম বিশাল কাপুর। তাঁর নিবিড় তত্ত্বাবধানেই এই জটিল ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জটি অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫-এ আন্ডারপাসটি প্রথমবার জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্ষাকালে জল জমা এবং পরিকাঠামোগত ত্রুটি দেখা দেওয়ায়, ২৫ মে, ২০২৫-এ সুরক্ষার স্বার্থে এটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর গত এক বছর ধরে চলেছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সংস্কারের কাজ।
নতুন রূপ পাওয়া এই আন্ডারপাসে এখন যোগ করা হয়েছে বেশ কিছু অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। বিশেষ করে আপ-লাইন সাইডে একটি শক্তিশালী ড্রেনেজ সিস্টেম এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জল সঞ্চয়কারী সাম্প তৈরি করা হয়েছে, যাতে ভারী বর্ষাতেও জল জমে যাতায়াতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। একই সঙ্গে, পরিকাঠামোর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে উলম্ব ফাটলগুলিও নিখুঁতভাবে মেরামত করা হয়েছে।
এই আন্ডারপাসটি পুনরায় চালু হওয়ায় স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হলো। আগে লেভেল ক্রসিং গেটের কারণে যে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতো, তা এখন অতীত হতে চলেছে। ফলে যাতায়াতের সময় সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য পণ্য পরিবহনও অনেক সহজ ও দ্রুততর হবে। ভারী বর্ষার সময়ও নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এই আন্ডারপাসটি এখন এক নির্ভরযোগ্য মাধ্যম।
পূর্ব রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি এই প্রকল্পের গুরুত্ব সম্পর্কে জানান, “এই উন্নত আন্ডারপাসটি নিছক একটি পরিকাঠামো নয়, বরং এটি নিরাপত্তা, মসৃণ যাতায়াত এবং দীর্ঘস্থায়ী জন-পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পূর্ব রেলওয়ের অটল অঙ্গীকারের প্রতিফলন।” আধুনিক এই আন্ডারপাস কেবল সময়ই বাঁচাবে না, বরং মুরারই অঞ্চলের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।





