দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্কের সমীকরণ ক্রমশ মজবুত হচ্ছে। এই আবহে মার্কিন রাজনীতিক মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে চর্চায় উঠে এল। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কের বিনিময়ে কোনো তৃতীয় দেশের সঙ্গে কোনো বোঝাপড়া বা দর কষাকষি সম্ভব নয়। পাকিস্তান ও আমেরিকার সম্পর্ক প্রসঙ্গে রুবিওর এই মন্তব্যকে কূটনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কী বললেন মার্কো রুবিও? মার্কিন বিদেশনীতির দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে গিয়ে রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভারত বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি অপরিহার্য কৌশলগত অংশীদার। তিনি সাফ জানিয়েছেন:
কোনো ‘ট্রেড-অফ’ নেই: ভারতের সঙ্গে গভীর বাণিজ্যিক ও সামরিক সম্পর্কের পথ প্রশস্ত করার ক্ষেত্রে কোনো দেশের জন্য সেই সম্পর্ককে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হবে না।
ভারতের গুরুত্ব: ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতের গুরুত্ব যে অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি, তা রুবিওর কথায় স্পষ্ট।
পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক: মার্কিন-পাকিস্তান সম্পর্ককে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সমান্তরালে নিয়ে আসার কোনো অবকাশ নেই বলেই তিনি মত দিয়েছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মত: রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রুবিওর এই মন্তব্য মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় আমেরিকার ক্রমবর্ধমান ভারত-কেন্দ্রিক নীতির প্রতিফলন। অতীতে পাকিস্তান আমেরিকা-ভারতের সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করলেও, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সমীকরণ অনেকটাই বদলেছে। চীনকে মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে ভারতকে আমেরিকার কাছে এখন অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করা হয়।
রুবিওর এই বক্তব্য কি তবে ভবিষ্যতে মার্কিন-পাকিস্তান সম্পর্কে টানাপোড়েন আরও বাড়িয়ে দেবে, নাকি ভারত-মার্কিন সম্পর্কের নতুন দিগন্তকে আরও শক্তিশালী করবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।





