বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ কমছে না। এক দিকে নির্বাচনী বিপর্যয়, অন্য দিকে দলের জনপ্রতিনিধিদের কাজের পথে বাধা—সব মিলিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে এখন আক্ষেপ ও অভিযোগের সুর স্পষ্ট। সাম্প্রতিক এক দলীয় বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, তাঁর দলের জয় নিশ্চিত ছিল এবং ২২০-এর বেশি আসন পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল তৃণমূলের।
কী বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? নির্বাচনী পরিসংখ্যানের হিসাব টেনে মমতা জানান, দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা ও গ্রাউন্ড রিপোর্ট অনুযায়ী ফল অন্যরকম হওয়ার কথা ছিল। তাঁর কথায়, “আমাদের ২০০-এর বেশি আসনে জেতার কথা ছিল।” তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ফলাফলে বড়সড় কোনো কারচুপি বা ষড়যন্ত্র রয়েছে, যার ফলে কাঙ্ক্ষিত জয় থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছে দলকে।
পুরসভা ও পঞ্চায়েত নিয়ে নতুন অভিযোগ: শুধুমাত্র বিধানসভা ভোটের ফলাফল নয়, বর্তমানে রাজ্যের তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা ও পঞ্চায়েতগুলোর কার্যপদ্ধতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ:
কাজে বাধা: তৃণমূলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সরকারি প্রকল্পের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা: উন্নয়নমূলক কাজের পথে কৃত্রিম বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে তৃণমূলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।
কর্মীদের বার্তা: তিনি দলীয় কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, সমস্ত বাধা সত্ত্বেও মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করা যাবে না।
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নির্বাচনের পর তৃণমূল নেত্রীর এই কঠোর অবস্থান মূলত দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখার একটি কৌশল। হার বা জয়ের চেয়েও এখন তাঁর মূল লক্ষ্য, দলের সংগঠনের ভিত মজবুত রাখা এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করা।
তবে বিরোধী শিবির এই অভিযোগকে ‘হারের গ্লানি লুকানোর ব্যর্থ চেষ্টা’ বলে কটাক্ষ করেছে। সব মিলিয়ে, রাজ্য রাজনীতিতে শাসক ও বিরোধীদের এই সংঘাত যে আগামী দিনে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।





