দেশে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রাহক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। এবার থেকে পেট্রল-ডিজেলের পাশাপাশি সিএনজি (CNG), এলএনজি (LNG) এবং হাইড্রোজেনের ডিসপেনসারগুলিতেও চলবে কড়া নজরদারি। জ্বালানির সঠিক পরিমাণ এবং শুদ্ধতা নিশ্চিত করতে ‘লিগ্যাল মেট্রোলজি’ বা ওজন ও পরিমাপ সংক্রান্ত নিয়মে বড়সড় সংশোধনী এনেছে কেন্দ্রীয় ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক।
কী পরিবর্তন আনল কেন্দ্র? এতদিন সরকার অনুমোদিত টেস্ট সেন্টার (GATC)-এর মাধ্যমে ১৮টি ধরনের ওজন ও পরিমাপ যন্ত্র যাচাই করা হতো। নতুন এই সংশোধনের ফলে সেই তালিকা বেড়ে ২৩-এ পৌঁছেছে। এর মধ্যে নতুন করে যুক্ত হয়েছে:
সিএনজি (CNG) ডিসপেনসার
এলএনজি (LNG) ডিসপেনসার
হাইড্রোজেন ডিসপেনসার
পেট্রল ও ডিজেল ডিসপেনসার
গ্রাহকদের জন্য কেন জরুরি? অনেক সময় অভিযোগ ওঠে যে, ফুয়েল স্টেশনে গ্যাসের পরিমাপ সঠিক পাওয়া যাচ্ছে না। এই নতুন নিয়মের ফলে সরকারি অনুমোদিত কেন্দ্রগুলি নিয়মিত এই ডিসপেনসারগুলি যাচাই (Verification) করবে। এর ফলে: ১. জ্বালানি সরবরাহে স্বচ্ছতা বাড়বে। ২. গ্রাহকরা প্রতিটি টাকায় সঠিক পরিমাণ জ্বালানি পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ৩. জ্বালানি জালিয়াতির সুযোগ কমবে।
খরচ ও নিয়ম: মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী, পেট্রল ও ডিজেল ডিসপেনসার যাচাইয়ের জন্য প্রতি নজলে ৫,০০০ টাকা ফি ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে, সিএনজি, এলপিজি, এলএনজি এবং হাইড্রোজেন ডিসপেনসারের ক্ষেত্রে এই ফি ধার্য করা হয়েছে ১০,০০০ টাকা প্রতি নজলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যেভাবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে দ্রুত এগোচ্ছে, তাতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী। এর ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকদের আস্থা বাড়বে, তেমনই জ্বালানি পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।





