প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগে উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি অজয় রায়ের বিরুদ্ধে মহোবা ও বারাণসী সহ রাজ্যের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। আরিয়ান পান্ডিয়া নামক এক ব্যক্তির দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে গত গভীর রাতে চৌক থানায় রায়ের বিরুদ্ধে এই মামলা নথিভুক্ত করা হয়। বারাণসীর এসিপি (দশাশ্বমেধ থানা) অতুল অঞ্জন ত্রিপাঠি জানিয়েছেন, সাইবার সেলের সহায়তায় এই বিতর্কিত ভিডিও ও মন্তব্যের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।
তবে এই আইনি চাপে পিছু হঠতে নারাজ অজয় রায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে একশোটি মামলা দায়ের করা হলেও তিনি নিপীড়িতদের অধিকারের পক্ষে কণ্ঠস্বর তুলতে পিছুপা হবেন না। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে যে আপত্তিকর মন্তব্যের ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, সেটি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে তৈরি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
নিজের বক্তব্যের স্বপক্ষে অজয় রায়ের পাল্টা দাবি, মহোবার এক তরুণীর উপর চলা ভয়াবহ অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি যখন মুখ খুলেছিলেন, তখনই বিজেপি সমর্থকরা এই অপপ্রচারের জাল বুনেছে। তাঁর অভিযোগ, ওই তরুণীকে ষোলো দিন ধরে জিম্মি রেখে ধর্ষণ, মাদক ইনজেকশন দেওয়া এবং অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। সেই ঘটনার সত্যতা থেকে নজর ঘোরাতেই তাঁর একটি এআই-নির্মিত ভিডিও ভাইরাল করে তাঁকে আইনি জালে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অজয় রায় এই ঘটনার তদন্তে সরকারের উদাসীনতাকে আক্রমণ করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন, “সরকার নিরাপত্তা নিয়ে বড় বড় কথা বললেও অপরাধীরা আজ নির্ভয়। মহোবার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে বিচার করতে হবে। তাদের মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোরতম শাস্তি না দিলে সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে না।” কংগ্রেস নেতা আরও বলেন, যে কোনো ধরনের নমনীয়তা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করবে।
অজয় রায় উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে মৃত ছাত্রীর শোকসন্তপ্ত পরিবারকে অবিলম্বে ৫০ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আর্থিক সাহায্য কোনো মেয়ের জীবনের বিকল্প হতে পারে না, তবে বিপর্যস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, নারীর সুরক্ষা ও মর্যাদা রক্ষায় বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ এবং তাদের জবাবদিহি করতে হবে।
কংগ্রেস দল ভুক্তভোগীর পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে এবং জানিয়েছে, দোষীদের কঠোর শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা এই লড়াই চালিয়ে যাবে। রাজ্য সভাপতির সাফ কথা, এআই ব্যবহার করে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চক্রান্ত সফল হবে না। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য এবং অন্যদিকে এক তরুণীর উপর নির্যাতনের ঘটনায় সরব হয়ে অজয় রায় এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। এই মামলা এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।





