কলকাতা পুরনিগমের কড়া নোটিশের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কালীঘাটে তাঁর বাসভবনের তথাকথিত বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলা এবং সম্পত্তির পুনর্মূল্যায়নের বিষয়ে পুরনিগমের পাঠানো নোটিশের প্রেক্ষিতে আইনজীবীর মাধ্যমে চিঠি পাঠিয়ে বাড়তি সময় চেয়েছেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। রবিবার সকালে এই চিঠির খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবারই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট রোড ও হরিশ মুখার্জি রোডের ঠিকানায় জোড়া নোটিশ পাঠিয়েছিল কলকাতা পুরনিগম। এমনকি, তাঁর ‘শান্তিনিকেতন’ বাড়ির দেওয়ালে নোটিশ সেঁটে দেওয়া হয়েছিল। পুর কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট প্রশ্ন ছিল, যে অতিরিক্ত নির্মাণকাজ হয়েছে, তার জন্য কি পুরসভার থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল? শুধু তাই নয়, ওই ‘বেআইনি’ অংশ ভেঙে ফেলারও নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, তৃণমূল নেতার আরও ১৭টি সম্পত্তির দিকে পুরনিগমের কড়া নজর রয়েছে বলে জানা যায়।
পুরনিগম সূত্রে খবর, ওই নোটিশের জবাব দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা ছিল সোমবার, ২৫ মে। সময়সীমা শেষের ঠিক আগের দিন রবিবার সকালে অভিষেকের আইনজীবীর পাঠানো চিঠিতে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য ১০ দিন সময় চাওয়া হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাধারণত পুরসভার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো নাগরিক সময় চাইলে তা মঞ্জুর করা হয়। তাই আশা করা হচ্ছে, অভিষেককেও এই অতিরিক্ত সময়টুকু দেওয়া হতে পারে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আইনি জটিলতা এড়াতেই সুর নরম করলেন অভিষেক? কারণ, দিন কয়েক আগেই এই বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে তিনি রীতিমতো মেজাজ হারিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বৈঠকের পর বেরোনোর সময় সাংবাদিকরা পুরনিগমের নোটিশ নিয়ে প্রশ্ন করলে গাড়ির কাঁচ নামিয়ে আঙুল উঁচিয়ে ধমকের সুরে বলেছিলেন, “নির্দিষ্ট করে জেনে আসুন বাড়ির কোন অংশটা অবৈধ। তারপর আমাকে প্রশ্ন করুন।” সেদিন তাঁর এই কড়া অবস্থান দেখে অনেকেই মনে করেছিলেন তিনি হয়তো পুরনিগমকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাবেন। কিন্তু রবিবারের এই পদক্ষেপে সেই অবস্থান সম্পূর্ণ বদলে গেল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে নিয়ম মেনেই আপাতত জটিলতা কাটানোর কৌশল নিয়েছেন অভিষেক। পুরনিগমের কড়া পদক্ষেপের সামনে দাঁড়িয়ে আইনি পথে হেঁটে তিনি প্রকারান্তরে কিছুটা হলেও সুর নরম করলেন কি না, তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। তবে আগামী ১০ দিনে এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর সব মহলের।





