বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে হোয়াইট হাউসে সফরের আমন্ত্রণ জানালেন মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিও। চারদিনের ভারত সফরে এসে রুবিও প্রথমেই কলকাতা ভ্রমণ করেন এবং এরপরই দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং শক্তি সুরক্ষার মতো কৌশলগত বিষয়গুলোই ছিল এই বৈঠকের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
সকালে সস্ত্রীক কলকাতায় পৌঁছেই মার্কো রুবিও সোজা চলে যান মাদার হাউসে। সেখানে প্রায় দুই ঘণ্টা অতিবাহিত করার পাশাপাশি তিনি নির্মলা শিশুভবনও পরিদর্শন করেন। উল্লেখ্য, ১৪ বছর পর কোনো মার্কিন স্টেট সেক্রেটারি কলকাতা সফরে এলেন, যা এই সফরের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কলকাতার পাঠ চুকিয়ে দিল্লিতে পৌঁছেই রুবিও সরাসরি সেবাতীর্থে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসেন।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স হ্যান্ডেলে নিজের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা ভারত-আমেরিকার বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রশ্নে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, বিশ্বের বৃহত্তর মঙ্গলের জন্য নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাবে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদী আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
ভারত ও আমেরিকার এই কূটনৈতিক সম্পর্কের সমীকরণ যে ক্রমশ আরও নিবিড় হচ্ছে, তা স্পষ্ট মার্কিন অ্যাম্বাসেডর সার্গিও গোরের বক্তব্যেও। তিনি এই বৈঠককে অত্যন্ত ‘ফলপ্রসূ’ বলে অভিহিত করেছেন। গোরের মতে, নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে উভয় পক্ষই ইতিবাচক আলোচনা করেছে। মোদীর নেতৃত্বের প্রশংসাও করেছেন তিনি।
এই সফর ভারত-মার্কিন সম্পর্কের নতুন অধ্যায় উন্মোচন করতে চলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে শুরু করে ভূ-রাজনীতি—সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্বের এক নতুন বার্তা দিলেন মার্কো রুবিও। ১৪ বছর আগে হিলারি ক্লিনটনের কলকাতা সফরের পর, আজকের এই সফর প্রমাণ করছে যে ভারতের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সব মিলিয়ে, মোদী-রুবিও বৈঠক ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।





